| শিরোনাম: |

ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত নেপাল এবার শুধু আন্তর্জাতিক সহায়তা
নয়, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করার
পথে এগোচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় কার্বন
নিঃসরণকারী দেশগুলোর দিকে নজর দিয়েছে কাঠমান্ডু।
দুর্যোগের পর প্রতিবেশী নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত। দেশটি ইতোমধ্যে
দুই দফায় প্রায় ৪৭ দশমিক ৫ টন ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে। ভারতীয় বিমানবাহিনীর
উড়োজাহাজে করে এসব প্রয়োজনীয় সামগ্রী নেপালে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যেই
জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মোকাবিলায় নতুন অবস্থানের ইঙ্গিত
দিয়েছে নেপাল।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানালের বক্তব্যের পর বিষয়টি নতুন করে
আলোচনায় এসেছে। তিনি মনে করেন, নেপালের সাম্প্রতিক বন্যা, হড়পা বান ও
ভূমিধসকে কেবল আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। জলবায়ু
পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাবেই হিমালয় অঞ্চলের দেশটি ক্রমাগত বড় ধরনের
প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কান্তিপুর টেলিভিশনকে
দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শিশির খানাল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নেপালের
কূটনৈতিক অবস্থানে পরিবর্তন আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এতদিন
আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলেও এখন ন্যায়বিচার ও
ক্ষতিপূরণের দাবিকে সামনে আনার কথা ভাবছে দেশটি।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি দাতব্য সহায়তার নয়; বরং এর সঙ্গে আইনি ও নৈতিক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন জড়িত। তার মতে, বৈশ্বিক জলবায়ু সংকট তৈরিতে নেপালের অবদান খুবই সামান্য হলেও এর ক্ষতিকর প্রভাব দেশটিকে তুলনামূলকভাবে বেশি মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
খানালের বক্তব্য অনুযায়ী, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মতো বড় কার্বন
নিঃসরণকারী দেশগুলোর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়টি বিবেচনা করছে
কাঠমান্ডু। এসব দেশের শিল্প ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিপুল পরিমাণ
গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হচ্ছে, যার প্রভাব হিমবাহ, নদী, পাহাড় ও বর্ষার
স্বাভাবিক ব্যবস্থার ওপর পড়ছে বলে মনে করে নেপাল।
পাহাড়, নদী, হিমবাহ ও মৌসুমি বৃষ্টিপাত নেপালের অর্থনীতি ও জনজীবনের
সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে হিমবাহ দ্রুত গলে
যাওয়ায় হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ-উৎপন্ন হ্রদের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি, হড়পা বান ও
ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর একাধিক দুর্যোগও সেই ঝুঁকির
মাত্রা স্পষ্ট করেছে।
নেপালের অবস্থান হলো, দুর্যোগের পর শুধু ত্রাণ পাঠিয়ে সমস্যার
দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি
দায়ী দেশগুলোর কাছ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন ও ক্ষতিপূরণ
নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এদিকে দুর্যোগের সময় দ্রুত সহায়তা দিয়ে নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত। তবে কাঠমান্ডুর নতুন অবস্থান বাস্তবায়িত হলে ভারতসহ বড় কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর সঙ্গে নেপালের জলবায়ু কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে।