প্রকাশ: শনিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৫, ৩:৫৬ পিএম

সংগৃহীত ছবি
গত ১৩ নভেম্বর মহেশখালী উপজেলা ধলঘাটা ইউনিয়নের এমভি আমেনা গনি নামে ট্রলারটি ২৯ জন মাঝিমাল্লাকে নিয়ে সাগরে নামে। শীতের ঘন কুয়াশায় দিকভ্রান্ত হয়ে ট্রলারটি অজান্তেই সীমানা অতিক্রম করে ভারতীয় জলসীমায় পৌঁছে যায়। ১৫ নভেম্বর রাতে ভারতীয় কোস্টগার্ড তাদের আটক করে নিয়ে যায়।
জসিম উদ্দিনের ঘরে উঁকি দিলেই চোখে পড়ে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য, যেখানে ছয় সন্তান আর অসহায় স্ত্রী প্রতিদিন তাকিয়ে থাকেন বাড়ির কর্তার ফেরার আশায় কিন্তু জসিম উদ্দিন এখন আর বাড়ির আঙিনায় নেই। তিনি আজ ভিনদেশি কারাগারে বন্দি, অজানা অনিশ্চয়তার অন্ধকারে নিঃসঙ্গ সময় পার করছেন। শুধু জসিম নন, তার মতো একই পরিণতি জাহাঙ্গীর মাঝি, আবু বক্কর, পারভেজ ও সৈয়দ আহমদসহ ধলঘাটা এলাকার মোট ২৯ জন মৎস্যজীবীর।
ট্রলার মালিকের দাবি অনুযায়ী ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ দুর্ঘটনা, কোনোভাবেই ইচ্ছাকৃত সীমানা লঙ্ঘন নয়। আটক হওয়া মাঝিমাল্লাদের মধ্যে রয়েছে মাত্র ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরও, যে বয়সে তার বই-খাতা নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল, অথচ দারিদ্র্যের তাড়নায় এখন সে ভিনদেশে বন্দি জীবন কাটাচ্ছে।
স্বজনদের অভিযোগ, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষগুলো আটক হওয়ায় শিশু ও নারীদের দিন কাটছে অনাহার ও দুশ্চিন্তায়। সরকারের কাছে তারা আবেদন জানিয়েছেন, দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে আটক ব্যক্তিদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করতে। তাদের ভাষায় যদি এই মানুষগুলো ফিরতে দেরি হয় তবে অনেক পরিবার পথে বসে যাবে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল আলম জানিয়েছেন, বন্দি জেলেদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জোরালো কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। প্রশাসন পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংকট সমাধানে সব ধরনের সহায়তা ও আইনি সহযোগিতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
স্বদেশ প্রতিদিন/ এমএস