প্রকাশ: বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫, ১২:৪০ পিএম

সংগৃহীত ছবি
পল্লবী থানা যুবদলের সদস্যসচিব গোলাম কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই সন্ত্রাসী—পাতা সোহেল ওরফে মনির হোসেন এবং সুজন—কে আটক করেছে র্যাব-৪।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) রাতে সাভার ও টঙ্গীর পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন র্যাব-৪-এর মিডিয়া অফিসার মেজর মোহাম্মদ আবরার ফয়সাল সাদী।
তিনি জানান, এ বিষয়ে বুধবার (১৯ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানাবেন র্যাব-৪ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মাহবুব আলম।
গত সোমবার (১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে হেলমেট ও মুখোশ পরা তিন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী মিরপুর ১২ নম্বরের বি ব্লকে ‘বিক্রমপুর হার্ডওয়্যার অ্যান্ড স্যানিটারি’ নামের একটি দোকানে ঢুকে খুব কাছ থেকে গুলি করে পল্লবী থানা যুবদলের সদস্যসচিব কিবরিয়াকে হত্যা করে।
এ ঘটনার পর দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যাওয়ার সময় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় ওঠে এবং দ্রুত না চালানোয় চালক আরিফ হোসেনের (১৮) কোমরে গুলি করে। আহত অবস্থায় চালককে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। আর রক্তাক্ত অবস্থায় কিবরিয়াকে শেরেবাংলা নগরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার সময় স্থানীয় বাসিন্দারা জনি ভূঁইয়া (২৫) নামের একজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
হত্যাকাণ্ডে ঘটনায় কিবরিয়ার স্ত্রী সাবিহা আক্তার ওরফে দীনা বাদী হয়ে মঙ্গলবার পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় আসামি হিসেবে জনিসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অপর আসামিরা হলেন সোহেল ওরফে পাতা সোহেল ওরফে মনির হোসেন (৩০), সোহাগ ওরফে কালু (২৭), মাসুম ওরফে ভাগিনা মাসুম (২৮) ও রোকন (৩০)। এ ছাড়া অজ্ঞাত পরিচয় আরও সাত-আটজন এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পল্লবী থানা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করছে।
দোকানের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, কিবরিয়া ভেতরে প্রবেশ করার মাত্র কয়েক সেকেন্ড পরই কয়েকজন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত দোকানে ঢুকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে। হামলাকারীদের একজনের পরনে ছিল পাঞ্জাবি, আর বাকি দু’জন শার্ট পরিহিত। সবার মাথায় হেলমেট ও মুখে মুখোশ থাকায় পরিচয় গোপন ছিল।
হামলার মুহূর্তে দোকানে মোট ৯ জন উপস্থিত ছিলেন। দুর্বৃত্তদের একজন গুলি ছুড়তে শুরু করলে আতঙ্কে সবাই দোকান থেকে বেরিয়ে যান। এরপর দুজন মিলে কিবরিয়াকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাদের একজন আরও তিন রাউন্ড গুলি ছুড়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ নিয়াজ