প্রকাশ: সোমবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫, ১:৪৩ পিএম

সংগৃহীত ছবি
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় জানিয়েছেন, যদি আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে না নেওয়া হয়, তবে সমর্থকরা ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার রায়ের আগে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সতর্ক করেছেন, বিক্ষোভ শেষ পর্যন্ত সহিংসতায় রূপ নিতে পারে।
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় দমনপীড়নে মুখ্য ভূমিকা রাখেন শেখ হাসিনা। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই বিপ্লবে ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হন। হাজারো মানুষ আহত হন। পুলিশের গুলিতে বেশির ভাগ মানুষ মারা যান। এটি ছিল স্বাধীনতার পর সবচেয়ে ভয়াবহ রাজনৈতিক সহিংসতা।
আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। তিনি এখন দিল্লিতে নির্বাসনে আছেন। তবে জুলাই হত্যার বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। দলটির নিবন্ধনও স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। ফলে আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারবে না।
এ বিষয়ে রয়টার্সকে জয় বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন আমরা হতে দেব না। আমাদের বিক্ষোভ আরও তীব্র হবে, যা দরকার তাই করব আমরা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কিছু না করলে নির্বাচনের আগেই বাংলাদেশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে পারে…সংঘাত হবেই।’
সাক্ষাৎকারে জয় আরও জানান, তিনি এবং তার মা শেখ হাসিনা দেশে আওয়ামী লীগকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তবে অন্তর্বর্তী সরকার বা বিএনপির সঙ্গে তাদের যোগাযোগ নেই।
এদিকে, সোমবার (১৭ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধসহ পাঁচটি মামলার রায় ঘোষণা করবে। এ বিষয়ে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, “আমরা আগেই জানি রায়ের ফল কী হবে। এটি সরাসরি টেলিভিশনে দেখানো হচ্ছে। তারা তাকে দোষী সাব্যস্ত করবে এবং হয়তো মৃত্যুদণ্ডও দিতে পারে। তবে আমার মায়ের কিছু হবে না। তিনি ভারতে নিরাপদে আছেন এবং ভারত তাকে পূর্ণ নিরাপত্তা দিচ্ছে।”
স্বদেশ প্রতিদিন/ নিয়াজ