বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেয়া হবে না       নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মোংলায় বিএনপির বিক্ষোভ       আওয়ামী লী‌গের তিন নেতা গ্রেপ্তার      সাতক্ষীরায় জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রকল্পের সমাপনী      সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ       আইনশৃঙ্খলা সভায় হট্টগোল, তর্কে জড়ালেন এমপি হান্নান      লাতিন আমেরিকার দুই দলকে হারাল জাপান-কোরিয়া      কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ৫১ কিশোর আটক      প্রথম ১৪ ওয়ানডেতেই ইতিহাস গড়লেন ম্যাথু ব্রিটজকে      ২৫ সেপ্টেম্বরের মুর্তজা কিজিলবাশের কনসার্ট স্থগিত      অঙ্কন-নন্দিতার দ্বৈত কণ্ঠে আজ প্রকাশিত হচ্ছে ‘মথুরা’      ফোটন সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন      
আখাউড়ায় হারিয়ে যাচ্ছে রং-তুলির পেশা
আখাউড়া(ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি:
প্রকাশ: রবিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২৫, ৩:২৮ পিএম

বর্তমান হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তির যুগ। প্রযুক্তির কল্যাণে সব কিছু যেন ডিজিটাল নির্ভর হয়ে পড়েছে। এরইমধ্যে সাইনবোর্ড,ব্যানার ও দেয়াল লিখাতে প্রযুক্তির ছোঁয়া পড়ায় দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে রং-তুলির পেশা।

তাই এখন আর চোখে পড়ছেনা দেয়ালে কাপড় টাঙিয়ে রং-তুলি দিয়ে ব্যানার লিখনসহ বিভিন্ন স্থানে আঁকাআঁকি। এসবের পরিবর্তে সব জায়গায় যেন দেখা যাচ্ছে ডিজিটাল পদ্ধতির লেখা। 

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় অনেকটাই যেন রং-তুলি পেশা হারিয়ে যেতে বসেছে। পৌর শহরসহ উপজেলার সর্বত্র যেন শোভা পাচ্ছে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সাইনবোর্ড,ব্যানার দেয়াল লিখন। ওইসব লেখা দিন দিন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠে উঠেছে। এরইমধ্যে রং তুলি পেশার সাথে জড়িত লোকজনরা  তাদের কাজ কমে যাওয়ায় অনেকেই এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছেন।  

একসময় রং-তুলিই ছিল সৌখিন পেশাজীবী চারু  শিল্পীদের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এ শিল্পটি অনেকটাই  বিলুপ্ত হতে চলছে।

খোঁজ নিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এক সময় পৌর শহরসহ উপজেলা অন্ত:ত ২০-২৫ জন লোক এ পেশার সাথে জড়িত ছিল। কাজের চাহিদা বেশী থাকায় তারা রাত দিন এ কাজ করেছে। কিন্তু বর্তমানে কাজের চাহিদা কমে যাওয়ায় এ পেশা ছেড়ে অনেকেই অন্য পেশায় কাজ করছেন। কেউ কেউ বিকল্প পেশা না পেয়ে এটাকে এখনো ধরে রেখেছেন।


রং-তুলি পেশার সাথে জড়িত মো. আলাউদ্দিন বলেন একসময় সরকারি অফিস  আদালতরে সব সাইনর্বোড, ব্যানার  লিখার কাজ করেছি।  স্থানীয় পর্যায়ে কাজের চাহিদা ভালো ছিল। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত অবধি টানা কাজ করা হতো। তাছাড়া বিভিন্ন দিবসসহ নানান সামাজকি ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে গভীর রাত পযর্ন্ত  কাজ করতে হতো। দৈনিক হাজার টাকার উপর আয় হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে ডিজিটাল ব্যানারের প্রভাবে সাইনর্বোড, ব্যানার লিখনের কাজ নেই বলে চলে। মাসে দু’একটা কাজ পাওয়া যায়। তাই জীবিকার প্রয়োজনে অন্য পেশায় কাজ করছি।

মো: সৌরভ বলেন, এক সময় এ কাজের বেশ প্রতিযোগিতা ছিল। দৈনিক কাজ থাকতো। কাজ করার জন্য লোকজন আগ থেকেই বলে রাখতো। কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় এ কাজের চাহিদা অনেক কমে গেছে। বেশীভাগ লোকজন ডিজিটালে সাইনবোর্ড ব্যাটার তৈরী করছেন। এতে তাদের খরচ ও সময় অনেক কম লাগছে। বর্তমানে এ উপজেলায় প্রায় অনেকেই এ কাজ ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশায় চলে গেছেন। তিনি বলেন সরকারি বেসরকারি অফিসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মাঝে মধ্যে কিছু কাজ পাওয়া যায়। বেশীভাগ অলস সময় পার করতে হয়। অন্য কাজ জানা না থাকায় কষ্ট করে এ পেশা আকড়ে ধরে আছি। তিনি আরও বলেন একসময় শিক্ষিত যুব সমাজ সম্মানের সাথে এ পেশায় জীবিকা নির্বাহ করেছে। এখন ডিজিটাল ব্যানারের ব্যবসা ভালো হওয়ায় নতুন করে কেউ আর এ পেশায় আসছে না।

সড়ক বাজারের ব্যবসায়ী মো. আবু ছায়েদ মিয়া বলেন, এক সময় আমরা রং তুলি শিল্পীদের মাধ্যমে দোকানের নাম লিখা হতো। এখন আর রং তুলি দিয়ে লিখা হয় না। ডিজিটাল পদ্ধতিতে সাইন বোর্ড চকচকে সুন্দর হয় পাশাপাশি দীর্ঘ স্থায়ী থাকে।

মো: হাবিবুর রহমান বলেন, মোটরসাইকের নাম্বার লিখতে রং তুলি শিল্পীদের কাছে গেলে তারা ৪শ টাকা চেয়ে বসে। সেই কাজ ডিজিটালের মাধ্যমে ১৫০ টাকায় করা হয়। লেখা ও সুন্দর হয়েছে।

মো: জামশেদ মিয়া বলেন, আগে যে কোন সাইনবোর্ড বা ব্যানার লিখা রং তুলি শিল্পীদের মাধ্যমে করা হতো। ওইসব কাজের চাপ বেশী থাকায় তাদের পাওয়া খুবই কষ্ট হতো। এখন সব কাজ ডিজিটাল পদ্ধতিতে হওয়ায় অতি সহজে করতে পারছি। এতে আমাদের সময় ও কম লাগছে, লেখা ও ফুটে উঠছে। তাছাড়া আধুনিক পদ্ধতিতে যে টাকা দিয়ে কাজ করা যাচ্ছে রং তুলি শিল্পীদের মাধ্যমে সেই কাজ করতে দ্বিগুন টাকা দিতে হচ্ছে। তাই অতি সহজে সুন্দর কাজ করতে লোকজন ডিজিটালের উপর বেশী নির্ভর হচ্ছেন।


স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ 


আরও সংবাদ   বিষয়:  আখাউড়া  






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close