প্রকাশ: শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২৫, ৪:৫৯ পিএম

দখলকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা ক্রমেই বেড়েই চলেছে। সর্বশেষ ঘটনায় ইসরায়েলের অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা সালফিতের নিকটস্থ দেইর ইস্তিয়া গ্রামের হাজ্জা হামিদা মসজিদে অগ্নিসংযোগ করেছে।
বৃহস্পতিবার ভোরে এ ঘটনা ঘটেছে, জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
অগ্নিকাণ্ডের পর মসজিদের দেয়ালে লেখা হয় বর্ণবাদী ও ফিলিস্তিনবিরোধী মন্তব্য। আগুনে পুড়ে যায় পবিত্র কোরআনের বেশ কিছু কপি। ফিলিস্তিনের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ‘নৃশংস অপরাধ’ আখ্যা দিয়েছে এবং উল্লেখ করেছে, দখলদার ইসরায়েল মুসলিম ও খ্রিস্টান ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর প্রতি বর্বর আচরণ অব্যাহত রাখছে।
জাতিসংঘের মানবিক সংস্থা ওসিএইচএ জানিয়েছে, চলতি বছরের জলপাই তোলার মৌসুম শুরুর পর থেকেই পশ্চিম তীরে রেকর্ডসংখ্যক ইসরায়েলি অবৈধ বসতকারীর হামলার ঘটনা ঘটেছে। ১ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬৭টি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব হামলায় দেড় শতাধিক ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন এবং ৫ হাজার ৭০০-এর বেশি জলপাই গাছ ধ্বংস হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের আড়ালে পশ্চিম তীরে হামলার ঘটনা আরও বেড়েছে। এছাড়া, নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থী সরকার পশ্চিম তীরকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংযুক্ত করার চাপও বাড়াচ্ছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার দফতর গত জুলাইয়ে সতর্ক করেছিল, বসতকারীদের সহিংসতা ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে।
দেইর ইস্তিয়ার মসজিদে আগুন দেওয়ার ঘটনায় জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ নিন্দা জানিয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টেফান দ্যুজারিক বলেছেন, ‘উপাসনালয়ে এমন হামলা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।’
জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘অবৈধ বসতকারীদের উসকানিমূলক সহিংসতা ইসরায়েলি সরকারের নীতিরই সম্প্রসারণ।’ জার্মানি হামলার সমালোচনা করে অপরাধীদের বিচারের নিশ্চয়তা দিতে জোর দিয়েছে। সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বলেছে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের অগ্নিসংযোগ ‘অগ্রহণযোগ্য’ এবং এই সহিংসতা ও অবৈধ বসতি স্থাপনের অব্যাহত সম্প্রসারণ বন্ধ করতে হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে