প্রকাশ: শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:৩৯ AM আপডেট: ১৪.১১.২০২৫ ১০:৪৮ এএম

সংগৃহীত ছবি
রংপুরের বদরগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসা কাঁচামাল ব্যবসায়ী আশরাফুল হককে (৪২) হত্যা করে ২৬ খণ্ডে ভাগ করা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
তিন দিন আগে অসুস্থ বাবাকে হাসপাতালে রেখে ঢাকায় বন্ধু জরেজ মিয়ার সঙ্গে আসেন আশরাফুল। এরপর থেকে তার স্ত্রী লাকী বেগমের ফোন সবসময় জরেজ রিসিভ করতেন এবং আশরাফুল ব্যস্ত আছেন বলে জানানো হতো।
শেষ পর্যন্ত শ্বশুরবাড়ির পরিবারের সন্দেহ ও খোঁজখবরের পর বদরগঞ্জ থানায় অভিযোগ করলে ঢাকা থেকে আশরাফুলের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহটি হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ মাঠের গেটের কাছে দুটি নীল ড্রামের ভেতর পাওয়া যায়। পরিচয় শনাক্ত করতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশ্লেষণ করা হয়।
নিহতের শ্যালক আব্দুল মজিদ জানান, আশরাফুল তার অসুস্থ বাবাকে হাসপাতালে রেখে ঢাকায় বন্ধুর সঙ্গে যান। এরপর থেকে আর তার সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি। ফোনে যোগাযোগ করতে চাইলে বন্ধু জরেজ ফোন ধরতেন এবং “আশরাফুল ব্যস্ত আছে” বলে জানাতেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আশরাফুল হক হিলি থেকে কাঁচামাল ক্রয় করে ঢাকায় ও চট্টগ্রামে পাইকারি বিক্রি করতেন। দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় থাকা বন্ধু জরেজ মিয়া তার কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা ধার চেয়েছিলেন।
স্থানীয় ও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আশরাফুল সহজসরল প্রকৃতির মানুষ ছিলেন এবং সামাজিক ও ধর্মীয় কাজে সক্রিয় ছিলেন। রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে তার বাড়ি। তিনি ভারত ও মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ ও আলু আমদানির ব্যবসা করতেন এবং সরকারি লাইসেন্সও ছিল।
বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম আতিকুর রহমান বলেন, নিহতের পরিবার থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে রমনা ও শাহবাগ থানাকে সহযোগিতা করা হচ্ছে এবং ঢাকায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।