
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ঘিওরকোল গ্রামের তরুণ কৃষক রফিকুল ইসলাম রিপন (৩৫) নতুন উদ্ভাবিত ব্রি ধান–১১০ চাষে আশানুরূপ ফলন পেয়েছেন। উপজেলার মধ্যে তিনিই প্রথম এ জাতের ধান আবাদে সফল হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ইন্টারনেটে বিভিন্ন ধানের জাত সম্পর্কে তথ্য অনুসন্ধান করে রিপন ব্রি ধান–১১০ সম্পর্কে জানতে পারেন। পরে তিনি কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার একটি বীজ কোম্পানি থেকে বীজ সংগ্রহ করে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ শুরু করেন।
রিপন বলেন, “ধানের আবাদ খুব ভালো হয়েছে। অতিবৃষ্টিতে কিছু জমি নুয়ে পড়লেও ফলনে আমি সন্তুষ্ট। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে এসে নিয়মিত পরামর্শ দিয়েছেন, এতে অনেক উপকার পেয়েছি।”
তিনি জানান, ব্রি ধান–১১০ এর পাশাপাশি ব্রি ধান–১০৭, ১০৩ ও ৯৭ জাতের ধানও আবাদ করেছেন।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন বলেন, “গয়হাটা ইউনিয়নের কলিয়া ব্লকে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই আমি মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। রিপনের সফলতা নাগরপুরে ব্রি ধান–১১০ আবাদে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।”
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ব্রি ধান–১১০ জাতের ধান খাড়া ও গাঢ় সবুজ রঙের, উচ্চতা গড়ে প্রায় ১২০ সেন্টিমিটার। দানা লম্বা ও মাঝারি চিকন, চাল সাদা ও ঝরঝরে। এক হাজার পুষ্ট দানার ওজন প্রায় ১৯.৯ গ্রাম।
এই জাতের ধান বন্যা ও হেলে পড়া সহনশীল। বন্যামুক্ত এলাকায় এর জীবনকাল ১২৩ দিন এবং দুই সপ্তাহের বন্যায় ১৩৩ দিনের মধ্যে ফসল ঘরে তোলা যায়। প্রতি হেক্টরে গড়ে ৫ থেকে ৬.৬৫ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া গেছে যা অন্যান্য জাতের তুলনায় বেশি।
ধানটির চালের অ্যামাইলেজের পরিমাণ ২৪ শতাংশ এবং প্রোটিন ৮.৮ শতাংশ, ফলে রান্না করা ভাত ঝরঝরে হয় ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত এই জাতটি ২০২৫ সালের ১১ মার্চ বাজারজাতের অনুমোদন পায়। এটি উপকূলীয় জোয়ার–ভাটা অঞ্চল ও অগভীর বন্যাপ্রবণ এলাকায় চাষযোগ্য।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস.এম. রাশেদুল হাসান বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা ও রোগবালাইয়ের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ব্রি–১১০ একটি যুগোপযোগী উদ্ভাবন। কৃষক রিপনের মতো উদ্যমী কৃষকরাই আমাদের কৃষি অগ্রগতির চালিকা শক্তি।”
কৃষক রিপনের এই সফলতা স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। অনেকেই আগামী মৌসুমে ব্রি ধান–১১০ চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
কৃষি কর্মকর্তাদের আশা, এই জাতের ধান চাষ নাগরপুরসহ আশপাশের এলাকায় ধান উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে