
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়
প্রতিষ্ঠার ১৯ বছর পেরিয়ে গেলেও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো স্থাপন হয়নি কোনো স্থায়ী জিমনেসিয়াম। পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় এই সুযোগ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা বঞ্চিত রয়েছেন।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার শিক্ষার্থী, ২২০ জন শিক্ষক ও দুই শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকলেও ব্যায়ামের কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেই। শারীরিক শিক্ষা বিভাগের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ খেলাধুলা আয়োজন পর্যন্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারপ্ল্যান বা চলমান উন্নয়ন প্রকল্পেও কেন্দ্রীয় জিমনেসিয়াম স্থাপনের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট উল্লেখ নেই।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে খোলা মাঠ ও অল্প পরিসরে ইনডোর গেমসের ব্যবস্থা থাকলেও তা আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রয়োজনীয় ফিটনেস চর্চার সুযোগ পূরণ করতে পারে না। এর সঙ্গে গত এক বছর ধরে সংস্কারের নামে অচল অবস্থায় পড়ে আছে কেন্দ্রীয় মাঠটি, যা খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি আবাসিক হলের মধ্যে তিনটিতেই নেই অনুশীলন কক্ষ। একমাত্র ‘বিদ্রোহী’ হলে ছোট একটি অনুশীলন কক্ষ থাকলেও সেখানে প্রয়োজনীয় কোনো সরঞ্জাম নেই। ফলে স্বাস্থ্যসচেতন অনেক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের বাইরে গিয়ে টাকা খরচ করে জিমে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, একটি আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ে জিমনেসিয়াম অপরিহার্য। বিদ্রোহী হলে ছোট একটি অনুশীলন কক্ষ থাকলেও সরঞ্জাম না থাকায় কোনো কাজ হয় না। প্রশাসনের উচিত দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক একটি কেন্দ্রীয় জিমনেসিয়াম স্থাপন করা।
মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী তাহমিদ হীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি হলে তিন হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী থাকলেও জিমনেসিয়াম নেই। সমসাময়িক অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক জিম থাকলেও আমরা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত। ত্রিশাল এলাকাতেও বিকল্প সুবিধা না থাকায় শিক্ষার্থীদের শারীরিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
শারীরিক শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক নাজমুল হাসান বলেন, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে জিমনেসিয়াম থাকা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এটি শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, বরং খেলাধুলায় জড়িত ও স্বাস্থ্যসচেতন সবারই দাবি। আমরা ইতোমধ্যে প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি, আশা করছি শিগগিরই একটি জিমনেসিয়াম স্থাপন করা হবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে টিএসসি ভবন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে, যেখানে ইনডোর স্পোর্টসের পাশাপাশি একটি জিমনেসিয়ামের স্থান রাখা হয়েছে। এছাড়া বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের পাশেও একটি ব্যায়ামাগার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কাজ সম্পন্ন হলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আধুনিক জিমনেসিয়ামের সুবিধা পাবেন।