সংখ্যালঘুদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের প্রতিশ্রুতি দিলেন ড. এম এ কাইয়ুম

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী, দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. এম এ কাইয়ুম বলেছেন, “ধর্ম, বর্ণ বা গোত্র যাই হোক—আমরা সবাই এক জাতির মানুষ; বাংলাদেশি। ভাটারায় আপনারা জন্মগ্রহণ করেছেন, এখানে আপনাদের অধিকার রয়েছে। ভয়ের কোনো কারণ নেই, নির্ভয়ে ও সাহসের সঙ্গে জীবন যাপন করুন। যদি কোনো প্রতিরোধ বা অন্যায় ঘটে, আমাদের জানান—আমরা আপনার পাশে দাঁড়াবো।”
আজ মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) শ্বশানঘাট ভাটারা এলাকায় একটি বিশুদ্ধ পানি উত্তোলন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “মানুষের জীবন অমূল্য। আমরা বৈষম্যহীন ও ন্যায়নিষ্ঠ সমাজ গড়ার অঙ্গীকার করেছি। আমাদের লক্ষ্য ভোটের অধিকার ফিরিয়ে এনে একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলা।”
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জীবনমান ও আবাসনের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, “সংখ্যালঘুদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হবে। ক্ষুদ্র আয়ের ব্যবসায়ীদের ওপর চলমান চাঁদাবাজি ইতিমধ্যে বন্ধ করা হয়েছে। ভাটারায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”
ড. কাইয়ুম আরও উল্লেখ করেন, “অন্য ধর্মাবলম্বীদের সমস্যাও পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে। সকলের নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা আমাদের কর্তব্য। জমি দখল যাতে না হয়, তার জন্য আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এখানে আইনের শাসন বজায় থাকবে এবং কেউ অন্যায়ের শিকার হলে প্রতিকার পাবেন।”
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়ন এবং আবাসনের নিশ্চয়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ড. কাইয়ুম বলেন, “সংখ্যালঘুদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় ও বাসস্থান নিশ্চিত করা হবে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর চাঁদাবাজি বন্ধ করা হয়েছে, ভবিষ্যতেও তা কঠোরভাবে দমন করা হবে। একই সঙ্গে ভাটারায় মাদক নিয়ন্ত্রণে অভিযান ও সচেতনতা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
তিনি যোগ করেন, “অন্য ধর্মাবলম্বীদের সমস্যাগুলোও ধাপে ধাপে সমাধান করা হবে। কেউ যেন অবহেলিত না হয়, সেদিকে আমরা নজর রাখব। জমি দখল বা জবরদখলের মতো অপরাধ রোধে আইনি ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হবে।”
অনুষ্ঠানে স্থানীয় বাসিন্দারা ড. কাইয়ুমের বক্তব্য ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমকে স্বাগত জানান। তারা বলেন, ভাটারায় তার উদ্যোগে দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছে। বিশুদ্ধ পানি প্রকল্প উদ্বোধন স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
অনুষ্ঠানের শেষে ড. কাইয়ুম সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সবাই মিলে আমরা একটি সুন্দর, ন্যায়নিষ্ঠ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলব। বৈষম্য নয়, মানবিকতা ও ন্যায়বোধই হবে আমাদের পথচলার মূলনীতি।”
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির এই সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বলেন, বর্তমান বাংলাদেশ বৈষম্যমুক্ত। এই দেশে স্বৈরাচারের কোনো ঠাঁই নেই। স্বৈরাচার এই দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করে দিয়ে গিয়েছে। তাই দেশকে গড়ে তুলতে তোমাদের প্রস্তুত হতে হবে। আগামীর বাংলাদেশ হবে সম্ভাবনাময় আধুনিক বাংলাদেশ।
এখন নির্বাচনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ গণতান্ত্রিক দল বিএনপিকে ভোট দেওয়ার অপেক্ষায় আছে। তবে, একটি মহল গণভোটের কথা বলে নির্বাচন পেছানোর পাঁয়তারা করে আসছে।
ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, ভয়ংকর ১৭টি বছর কাটিয়েছে দেশের মানুষ। হত্যা-গুম-খুন-নির্যাতনে তাদের দমিয়ে রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর ছিলো আয়নাঘর। এছাড়া এমন কোনো অপকর্ম নেই যা শেখ হাসিনা করেনি। ক্ষমতায় থাকতে মানুষদের হত্যা থেকে শুরু করে যা প্রয়োজন সব করেছে, তার মধ্যে কোন অনুশোচনা পর্যন্ত নেই।
বিশুদ্ধ পানির অভাবে অনেক পানিবাহিত রোগ বিস্তার লাভ করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজ আমরা শ্বশানঘাট ভাটারা এলাকায় বিশুদ্ধ পানি উত্তোলন প্রকল্পের সার্বিক অর্থায়ন ও উদ্বোধন করলাম। পর্যায়ক্রমে এটি ঢাকা-১১ আসনের অন্যান্য এলাকাতেও সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করবো।
তিনি বলেন, বিশুদ্ধ পানির জন্য প্রয়োজনে আমরা সব স্কুল/কলেজে ফিল্টার পানির ব্যবস্থা করে দিবো। শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার পাশাপাশি সুস্থ থাকার গুরুত্ব অনেক। কারণ তারা সুস্থ না থাকতে পারলে সঠিকভাবে পড়াশুনা করতে পারবেনা।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন পেছানোর পক্ষে জনগণ নেই উল্লেখ করে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির এই সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বলেন, “বিভিন্ন দল নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করেছে। গণভোট তথা হ্যাঁ এবং না ভোটের মাধ্যমে তারা নির্বাচন পেছানোর পাঁয়তারা করছে। এই সরকারের সবচেয়ে সুবিধাভোগী মহল তারাই, তাই তারা নির্বাচনকে পেছোনোর পাঁয়তারা করছে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে। জনগণ তাদের পছন্দের দলকে ভোট দিবে। জনগণ যাকে ভোট দিবে সেই নির্বাচিত হবে। জনগণকে সাথে নিয়ে সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে এবং জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হবে।”
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ