প্রকাশ: শুক্রবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৫, ৩:৩১ পিএম

বরগুনার তালতলীতে জমির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে মরিয়ম বেগম নামে এক নারীর বিরুদ্ধে নিজেই নিজের মাথায় আঘাত করে সৎ ভাইদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সত্যতা যাচাই ও নির্দোষদের হয়রানি থেকে রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের জয়ালভাঙ্গা গ্রামে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলাকার তিন শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জয়ালভাঙ্গা গ্রামের মৃত আমজেদ ফরাজীর ছোট স্ত্রীর মেয়ে মরিয়ম বেগমের সঙ্গে তার সৎ ভাই নাসির ফরাজী, সেলিম ফরাজী ও চুন্নু ফরাজীর দীর্ঘদিন ধরে জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলছে। সম্প্রতি ওই বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এর পর চলতি বছরের ২৬ অক্টোবর মরিয়ম বেগম নিজেই নিজের মাথায় আঘাত করে সৎ ভাইসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এই অভিযোগের প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “মরিয়ম বেগম পরিকল্পিতভাবে নিজেকে আহত দেখিয়ে সৎ ভাইদের বিরুদ্ধে সাজানো মামলা করেছেন। এতে নিরপরাধ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তিনি নারী হওয়ার সুযোগ নিয়ে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে এলাকাবাসীকে ভোগান্তিতে ফেলছেন।”
বক্তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও মিথ্যা মামলার শিকারদের মুক্তির দাবি জানান।
মামলার প্রধান সাক্ষী মারজিয়া বেগম বলেন, “আমি মরিয়মের চিৎকার শুনে তার ঘরে যাই। তখন দেখি সে বোকরা পড়ে আছে, কিন্তু মাথায় বা শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। যদিও দুই পক্ষের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল।”
আরেক সাক্ষী কহিনুর বেগম জানান, “আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। পরে শুনেছি মামলা হয়েছে। আমাকে সাক্ষী করা হয়েছে, কিন্তু আমি কিছুই জানি না। আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দেব না।”
প্রত্যক্ষদর্শী জাকির ফরাজী বলেন, “দুই পক্ষের ঝগড়া হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু মরিয়মের মাথায় কেউ আঘাত করেনি। এটি সম্পূর্ণ সাজানো নাটক। আমরা চাই, প্রশাসন তদন্ত করে প্রকৃত সত্য প্রকাশ করুক।”
এ বিষয়ে তালতলী থানার ওসি মো. শাহজালাল বলেন, “কাউকে অন্যায়ভাবে হয়রানি করার সুযোগ নেই। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।”
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে