
জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন ও নভেম্বরে গণভোট আয়োজনসহ পাঁচ দফা দাবিতে রাজধানীর পল্টন এলাকা পরিণত হয়েছে বিক্ষোভমুখর জনসমুদ্রে।
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সকাল থেকেই হাজারো নেতা-কর্মীর মিছিলে পল্টন এলাকা কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা দক্ষিণ শাখার নেতৃত্বে সকাল থেকে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্থান থেকে মিছিল নিয়ে পল্টনের দিকে অগ্রসর হন। বেলা সাড়ে ১০টার দিকে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এর নেতৃত্বে পল্টন মোড়ে এসে জড়ো হন দলের থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। এ সময় ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চাই’, ‘নভেম্বরে গণভোট চাই’ ইত্যাদি স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা।
বিক্ষোভকারীরা জানান, তারা শান্তিপূর্ণভাবে গণভোট ও রাজনৈতিক অধিকার বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছেন। তবে বিক্ষোভের কারণে পল্টন ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
নিরাপত্তার স্বার্থে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কর্মকর্তারা। তারা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
একই দাবিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)সহ সমমনা আটটি ইসলামী দলও পল্টনে যোগ দেয়।
পল্টনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে তারা প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে স্মারকলিপি দিতে যমুনা অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
এর আগে গত সোমবার (৩ নভেম্বর) পুরানা পল্টনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন জামায়াতসহ আট ইসলামী দল।
দলগুলোর পাঁচ দফা দাবি হলো, ১. জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি, ২. নভেম্বরে গণভোটের আয়োজন, ৩. অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদকালে রাজনৈতিক হয়রানি ও গ্রেপ্তার বন্ধ, ৪. নির্বাচনে সব দলের সমান অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা, ৫. ধর্মীয় স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রমে বাধাহীনতা নিশ্চিত করা।
এদিকে, সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে পল্টন, মতিঝিল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে যানবাহন চলাচল আংশিকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে