প্রকাশ: বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:৩৪ পিএম

সংগৃহীত ছবি
মাজার-ই-শরিফে অবস্থিত ‘ব্লু মসজিদ’ বা নীল মসজিদ আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলের একটি ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক স্থান। তিমুরিদ নকশা ও কারুকাজে নির্মিত এই মসজিদ শুধু স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন নয়, বরং আফগান জাতির গৌরব ও ধর্মীয় অনুভূতির প্রতীক।
১৫শ শতকে সুলতান হোসেন বায়কারা মসজিদটি নির্মাণের নির্দেশ দেন। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এখানেই ইসলামের চতুর্থ খলিফা হজরত আলী ইবনে আবি তালিব (রা.)-এর সমাধি রয়েছে। যদিও প্রচলিত কবরস্থল হিসেবে ইরাকের নাজাফ ধরা হয়, স্থানীয়রা দৃঢ়ভাবে এই স্থাপনাটিকেই পবিত্র মনে করেন।
১৮৬৬ সালে বালখ অবরোধের সময় মসজিদটি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে, তবে স্থানীয়রা নিজের জীবন ঝুঁকি নিয়ে এটি সংরক্ষণ করেন। ২০শ শতকের শুরুতে মসজিদটি পুনর্নির্মাণ ও সংরক্ষণ করা হয়, ফলে এটি তার পুরোনো জৌলুস ফিরে পায়। পরবর্তীতে ইউনেস্কো মসজিদটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
মসজিদের স্থাপত্য ও সৌন্দর্য মনোমুগ্ধকর। নীলাভ টাইলস, চমকপ্রদ ক্যালিগ্রাফি, প্রশস্ত আঙিনা ও ফোয়ারা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। সূর্যের আলো যখন টাইলসে পড়ে, পুরো প্রাঙ্গণ নীলাভ আলোয় ছেয়ে যায়। সুউচ্চ মিনার ও গম্বুজ মসজিদকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
ব্লু মসজিদ আফগান সংস্কৃতি ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি ঘিরে প্রতি বছর সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত হয় এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকরা ভ্রমণে আসে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রাণ সঞ্চার করে। মসজিদটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং আফগান জাতির স্থিতিশীলতা, গৌরব ও সহিষ্ণুতার প্রতীক। শতাব্দীর পর শতাব্দী পার হলেও এটি দৃপ্তভাবে দাঁড়িয়ে আছে, দেখিয়ে দিচ্ছে সংঘাত, যুদ্ধ বা সময়ের ঝড়ও আধ্যাত্মিকতার আলো মুছে দিতে পারে না।
এক নজরে ব্লু মসজিদ
অবস্থান: বালখ প্রদেশ, আফগানিস্তান।
নির্মাণকাল: ১৫শ শতক।
শৈলী: তৈমুরীয় স্থাপত্য।
বিশেষত্ব: নীল টাইলস, ক্যালিগ্রাফি, আধ্যাত্মিক পরিবেশ।
ভ্রমণের সেরা সময়: বসন্ত মৌসুম।