নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চরকিং ইউনিয়নের শূলকিয়া গ্রামের ৫নং ওয়ার্ডের বেলায়েত হোসেন রোড এখন যেন মৃত্যুপথে ধাবিত। দীর্ঘ ৩০ বছরেও কোনো সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি আজ স্থানীয়দের কাছে এক দুঃসহ যাত্রাপথে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন হাজারো মানুষকে কাদা, গর্ত ও ধুলাবালির সঙ্গে যুদ্ধ করে চলাচল করতে হচ্ছে এই রাস্তায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কটি বছরের পর বছর অবহেলার শিকার। বর্ষা মৌসুমে রাস্তাটি কাদা-পানিতে তলিয়ে যায়, আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালিতে ঢেকে যায় পুরো পথ। ফলে পথচারী, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগী ও কৃষকরা পড়ছেন চরম দুর্ভোগে।
স্থানীয় বাসিন্দা মেহেরাজ উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা তিন যুগ ধরে রাস্তা পাকা করার দাবি জানাচ্ছি। প্রতিবার নির্বাচনের আগে আশ্বাস পাই, কিন্তু ভোটের পর কেউ আর খবর নেয় না। এখন চলাচলই কষ্টসাধ্য হয়ে গেছে।”
কৃষক আমজাদ হোসেন বলেন,“এই রাস্তা দিয়ে কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়া যায় না। কাদা আর গর্তে গাড়ি চলে না, প্রতি মৌসুমেই লোকসান হয়। কেউ আমাদের কষ্টটা বোঝে না।”
শূলকিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বলেন, “বৃষ্টির দিনে স্কুলে আসা মানেই কাদা-মাটির যুদ্ধ। অনেক ছাত্রছাত্রী রাস্তাঘাটের দুরবস্থার কারণে নিয়মিত স্কুলে যেতে পারে না।”
অটো রিকশা চালক ফখরুল ইসলাম বলেন, “এই রাস্তায় রিকশা চালালে মনে হয়, আর কতদিন টিকব! প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়। গর্তে চাকা পড়লেই উল্টে যাওয়ার ভয় থাকে।”
যাত্রী নূর নাহার বলেন, “রাস্তাটা এতটাই খারাপ যে, ছোট বাচ্চা বা বৃদ্ধদের নিয়ে বের হওয়াই ভয় লাগে। সামান্য অসতর্কতাই হতে পারে দুর্ঘটনার কারণ।”
চরকিং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাঈম উদ্দিন আহমেদ বলেন, “বেলায়েত হোসেন রোডটি দীর্ঘদিন ধরেই সংস্কারের অপেক্ষায় আছে। আমরা উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। প্রকল্প অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে।”
তবে এলাকাবাসীর দাবি, শুধু আশ্বাস নয়- এখন দরকার বাস্তব পদক্ষেপ। কারণ, প্রতিদিনই বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, আর বাড়ছে মানুষের ক্ষোভ।