প্রকাশ: বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫, ১:১৮ পিএম আপডেট: ০৫.১১.২০২৫ ২:১৭ PM

প্রতীকী ছবি
বাংলাদেশে পর্নোগ্রাফি ও অনলাইন জুয়ার সাইটসহ এসবের বিজ্ঞাপন বন্ধে ফেসবুক, টিকটক ও গুগলকে নোটিশ দিয়েছে সরকার। এসব কনটেন্টের কারণে দেশের আর্থিক ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিষয়টি তুলে ধরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব প্ল্যাটফর্মকে আইনগত দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ক্রিকেট মাঠে ধুন্ধুমার চার-ছক্কা, বোলিংয়ের ধরণ, উইকেট নাকি বাউন্ডারি; প্রতিটি বল ধরে অনলাইনে চলে রমরমা জুয়া। খেলার পেজ বা অ্যাপে দেয়া হয় চটকদার বিজ্ঞাপন। সরকারি হিসাবে, দেশে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ৫০ লাখের বেশি মানুষ। সর্বস্ব হারিয়ে অনেকেই জড়াচ্ছেন অপরাধে।
অনলাইন জুয়া ছাড়াও পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হয়ে পড়ছেন তরুণরা। যা নিয়ে উদ্বিগ্ন সরকার। এ অবস্থায় বাংলাদেশে পর্নোগ্রাফি, অনলাইন জুয়ার সাইট বা বিজ্ঞাপন বন্ধ করতে টেক জায়ান্ট গুগল, ফেসবুক ও টিকটককে আলাদা চিঠি দিয়েছে বিটিআরসি। গত ৩ নভেম্বর পাঠানো চিঠিতে, পারিবারিক বিরোধ, আত্মহত্যাসহ আর্থিক ও সামাজিক অবক্ষয়ের পেছনে পর্ণগ্রাফি ও অনলাইন জুয়াকে দায়ী করা হয়।
বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে এসব কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য উল্লেখ করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, বিটিআরসি থেকে প্ল্যাটফর্মগুলোকে ই-মেইল করা হয়েছে। দেয়া হচ্ছে, সামনেও দেয়া হবে। তাদের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ করা হচ্ছে।
ডিজিটাল প্লাটফর্ম ছাড়া মোবাইল অপারেটর, এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনলাইন জুয়া বন্ধে কঠোর নজরদারি ও ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রবির করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক শাহ মো. ফজলে খুদা বলেন, ‘সাইটগুলো ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মাধ্যমে ব্লক করে দেয়া হচ্ছে।’
উপায়-এর হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স মোহাম্মদ সামসুজ্জোহা বলেন, অনলাইন জুয়ার সাইটগুলোর ডাটা অ্যাক্সেস বন্ধ করে দেয়া সম্ভব। পাশাপাশি ইএসএসডি বা বিকল্প লেনদেন চ্যানেলগুলোকেও নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনতে হবে।
সাম্প্রতিক এক বিটিআরসি সভায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হয়েছে— মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মতোই অনলাইন জুয়া ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণে একটি স্বতন্ত্র সংস্থা গঠন করা প্রয়োজন।
স্বদেশ প্রতিদিন/ নিয়াজ