প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:৩৯ AM

ফাইল ছবি
“সত্য একদিন প্রকাশ পাবে।” সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজন এবং সরকারের অধ্যাদেশ জারির ক্ষমতা নিয়ে সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে।
বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশের প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকার ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ এনেছে। গণভোট সংক্রান্ত বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধের কারণে নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। এছাড়া, ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শঙ্কাও প্রকাশ পাচ্ছে।
মেয়াদ শেষ হওয়া কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হতে হবে। আর কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সত্য একদিন বেরিয়ে আসবে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার অধ্যদেশ জারি করতে পারে কি না-- এ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত দিয়েছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞরা। ড. শরিফ ভূঁইয়া বলছেন, সরকার চাইলে পারবে আর ড. শাহদীন মালিক বলছেন, আইন পাস অথবা অধ্যাদেশ জারির এখতিয়ার নেই নির্বাহী বিভাগ প্রধানের।
সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শরিফ ভূঁইয়া বলেন, সরকার প্রধানও জারি করতে পারে। সেটা সম্ভব। যদি সরকারপ্রধান জারি করতে চান, তবে সেটার আইনগত ব্যাখ্যা দেয়া যায়। আর সরকারপ্রধান জারি করতে না চাইলে রাষ্ট্রপতি করতে পারেন। এটা দুইভাবেই সম্ভব। দুইভাবেই আইনগতভাবে সমর্থন করা সম্ভব।
সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক মন্তব্য করেছেন, “প্রধান উপদেষ্টা মূলত প্রধানমন্ত্রীর সমতুল্য। তিনি নির্বাহী বিভাগের প্রধান, এবং নির্বাহী বিভাগের প্রধান কখনো আইন পাস করতে পারেন না। আমাদের সংবিধান অনুযায়ী তিনটি অঙ্গ রয়েছে—একটি আইন প্রণয়ন করে, একটি বিচার করে, এবং একটি পরিচালনা করে। যদি তা উল্টে হয়, তাহলে সুপ্রিম কোর্ট বলবে আমরা আইন প্রণয়ন করব, বা আইনসভা বলবে আমরা বিচার করব—এগুলো তো কখনো সম্ভব নয় এবং আইনের কোনও ধারা এটি অনুমোদন করে না। এটি একেবারেই অযৌক্তিক ধারণা।”
তিনি আরও বলেন, সংসদ কার্যকর হওয়ার আগেই গণভোট আয়োজন করা আইনগত প্রচলিত ধারণার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/ নিয়াজ