| শিরোনাম: |

নীলফামারীর ডোমার উপজেলা শহর থেকে বসুনিয়ার হাট পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার কাজ শেষ হয়নি গত চার বছরেও। কাজ ফেলে তিন বছর আগে ঠিকাদার চলে যাবার পরেও চুক্তি বাতিল ও নতুন ঠিকাদার নিয়োগের জটিলতায় জরাজীর্ণ ও ভঙ্গুর সড়ক নিয়ে চরম দুর্ভোগ ও ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
এলাকাবাসী জানায়, সড়কটি চলাচলের অনুপযোগি হলে ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময়ে সংস্কার কাজ শুরু হয়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সড়কটির কিছু অংশের পাকা স্তর ভেঙে রেখে কাজ বন্ধ করে চলে যায়। ভেঙে রাখার কারণে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে সড়কটি। বড় বড় গর্তের কারণে ঝুঁকি নিয়েই বিভিন্ন যানবাহন চলছে, সেইসাথে প্রতিনিয়ত হরহামেশাই ঘটছে নানা রকমের দুর্ঘটনা।
ডোমার উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের খাটুরিয়া গ্রামে বসুনিয়ার হাট এ জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা কেন্দ্রীক হাট। বিভিন্ন কৃষি পণ্যসহ গরু, ছাগল ক্রয়ের জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা আসেন এ হাটে। সপ্তাহের সোমবার ও শুক্রবার হাট বসে। উপজেলা শহর থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার ভাংগা সড়কের কারণে বিপাকে পড়েছেন দূর-দুরান্তের ব্যবসায়ীরা। মালামাল পরিবহনের সমস্যায় কমেছে ব্যবসায়ীদের আগমন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এলাকার কৃষক।
এছাড়াও এলাকার ছেলে মেয়েরা বাড়ি থেকে যাতায়াত করে ডোমার ও নীলফামারী শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করে। সড়কটির কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সকলে।
ডোমার উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্র জানায়, ৬ দশমিক ৭০ কিলোমিটার ওই সড়ক সংষ্কারে ২০২১ সালে দরপত্র আহ্বান করা হয়। যার প্রাক্কলন ব্যয় ধরা ছিল ২২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোজাহার এন্টারপ্রাইজ এ- ইউনিক কনস্ট্রাকশন জেভি। ২০ কোটি ৯৯ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজটি করতে তারা চুক্তিবদ্ধ হন। সে অনুযায়ী ২০২১ সালের ১৪ জুলাই কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি কাজ শুরু করার পর ২০২২ সালের অক্টোবর মাস থেকে কাজ বন্ধ রাখেন।
এবিষয়ে কথা বলার জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।
নীলফামারীর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ফিরোজ হাসান বলেন, ‘পূর্বের ঠিকাদারের চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। ওই সড়কের কাজটি করতে আমরা দরপত্র আহ্বানের অনুমতি পেয়েছি। যেহেতু ওই পথে চলাচলকারী মানুষ সাফার করছে, যত দ্রুত সম্ভব আমরা দরপত্র প্রক্রিয়া শেষে কাজ শুরু করবো’। কাজটি সম্পন্ন করতে ২৪কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে জানান তিনি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএস