বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু      পরিকল্পিতভাবে কাজ করলে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান সম্ভব      যুবসমাজকে মাদকের গ্রাস থেকে রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব: সাচিং প্রু      সনদের পাশাপাশি বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জন জরুরি: শ্রমমন্ত্রী      ৮ মাসে পেরিয়ে গেলেও ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়া জায় নেই      বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ       একাদশের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন      ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল আরও ৮ জনের      শরণখোলায় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিএনপির বিক্ষোভ      রৌমারীতে উপজেলা কাব ক্যাম্পুরীর উদ্বোধন      কপোতাক্ষে মিলল ভ্যানচালক ইখলাসের মরদেহ      টাঙ্গাইল সেতুর প্রকৌশলীকে স্ট্যান্ড রিলিজ      
কী থাকছে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশে
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৫, ৯:০১ পিএম
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সরকারকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে যে সুপারিশমালা দিয়েছে, সেখানে সাংবিধানিক আদেশ জারি করে গণভোটের মাধ্যমে সনদ বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই সুপারিশমালা তুলে দেন।

সেখানে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এর একটি খসড়াও যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।

এসময় উপদেষ্টা পরিষদের অন্য সদস্যদের পাশাপাশি আরো উপস্থিত ছিলেন ঐকমত্য কমিশনের সদস্য বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ইফতেখারুজ্জামান, বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন, মো. আইয়ুব মিয়া ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।


জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশে কী আছে, তা নিচে ধারাবহিক আলোচনা করা হলো;

যেহেতু দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ জনগণের সফল গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা ও অভিপ্রায় প্রকাশিত হয়েছে;

এবং যেহেতু এই গণঅভ্যুত্থানের পর ৫ আগস্ট ২০২৪ (২১ শ্রাবণ ১৪৩১) তারিখে তৎকালীন কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটে, ৬ আগস্ট ২০২৪ (২২ শ্রাবণ ১৪৩১) তারিখে জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়া হয় এবং ৮ আগস্ট ২০২৪ (২৪ শ্রাবণ ১৪৩১) তারিখে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি ও কার্যকারিতা পেয়েছে;

যেহেতু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্রীয় সংস্কারের মাধ্যমে সুশাসন, গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং কর্তৃত্ববাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি রোধের উদ্দেশ্যে সংবিধান, নির্বাচন, জনপ্রশাসন, বিচার বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন ব্যবস্থায় সংস্কারের জন্য ৬টি কমিশন গঠন করে এবং উক্ত কমিশনসমূহের প্রতিবেদন সরকারে পেশ করা হয়েছে;

যেহেতু এই প্রতিবেদনের সুপারিশসমূহের ভিত্তিতে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সরকার ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ (২৯ মাঘ ১৪৩২) তারিখে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করে;

যেহেতু জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারসহ অন্যান্য সুপারিশসম্বলিত জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ প্রণয়ন করে এবং রাজনৈতিক দল ও জোটগুলো উক্ত সনদে স্বাক্ষর ও বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করে;

যেহেতু সংবিধান সংস্কারের জন্য জনগণের অনুমোদন প্রয়োজন, সেজন্য গণভোট আয়োজন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও উক্ত পরিষদ কর্তৃক সংবিধান সংস্কার অপরিহার্য;

অতএব, সরকার জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা ও অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে এই আদেশ জারি করিল—

১। সংক্ষিপ্ত শিরোনাম

এই আদেশ “জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫” নামে অভিহিত হইবে, যা পরে “এই আদেশ” বলা হবে।

২। আদেশের প্রবর্তন ও কার্যকারিতা

 জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ফল হিসেবে প্রণীত জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে এই আদেশ অবিলম্বে সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হবে, এবং;

(ক) গেজেট প্রকাশের তারিখে অনুচ্ছেদ ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ১৩ ও ১৬ কার্যকর হবে।

(খ) অনুচ্ছেদ ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৪ ও ১৫ গণভোটের ইতিবাচক ফল প্রকাশের তারিখে কার্যকর হবে।

৩। সংজ্ঞা

এই আদেশে

(ক) “গণভোট” অর্থ এই আদেশের অধীনে অনুষ্ঠিত গণভোট;

(খ) “জাতীয় সংসদ” অর্থ সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদ অনুসারে গঠিত সংসদ;

(গ) “জুলাই গণঅভ্যুত্থান” অর্থ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থান, যার ফলশ্রুতিতে ৫ আগস্ট ২০২৪ তৎকালীন সরকার পতিত হয়, ৬ আগস্ট সংসদ ভাঙা হয় এবং ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়;

(ঘ) “জুলাই জাতীয় সনদ” অর্থ জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে রাজনৈতিক দল ও জোটসমূহের স্বাক্ষরিত সনদ;

(ঙ) “নির্বাচন কমিশন” অর্থ সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গঠিত কমিশন;

(চ) “নির্বাচিত প্রতিনিধি” অর্থ জাতীয় সংসদের সদস্য;

(ছ) “পরিষদ” অর্থ সংবিধান সংস্কার পরিষদ;

(জ) “সভাপ্রধান” অর্থ পরিষদের সভাপতিত্বকারী ব্যক্তি;

(ঝ) “সংবিধান” অর্থ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধান;

(ঞ) “সংসদ নির্বাচন” অর্থ পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন।

৪। গণভোট

জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত সংবিধান সংস্কার অংশ জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগের জন্য গণভোটে উপস্থাপন করা হবে।

৫। গণভোটের ব্যালট প্রশ্ন

১) ‘আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং তফসিল-১ এর সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবের প্রতি সম্মতি দিচ্ছেন?’

২) ভোটাররা গোপনে ভোট প্রদান করবেন।

৬। গণভোট আয়োজন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে বা নির্বাচনের দিন আদেশ অনুসারে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

৭। আইন প্রণয়ন

নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেবে।

৮। সংবিধান সংস্কার পরিষদ

(১) গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট ‘হ্যাঁ’ হলে:

ক) জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা মিলিত হয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করবে;

খ) তারা সংসদ ও পরিষদ উভয়ের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন;

গ) প্রথম অধিবেশন থেকে ২৭০ পঞ্জিকা দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করবে;

(২) পরিষদে অংশগ্রহণকারী সদস্যরা পরিষদ-সদস্য হিসেবে গণ্য হবেন;

(৩) পরিষদ অধিবেশন আহ্বান, প্রস্তাব উত্থাপন ও কার্যপ্রণালি নির্ধারণ করবে;

(৪) জাতীয় সংসদ সচিবালয় সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে।

৯। শপথ ও শপথপাঠ

নির্বাচিত প্রতিনিধি সংসদ-সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পর পরিষদ-সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ বা ঘোষণা করবেন।

১০। সভাপ্রধান ও উপ-সভাপ্রধান

প্রথম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে সভাপ্রধান ও উপ-সভাপ্রধান নির্বাচন করা হবে; নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্য সভাপতিত্ব করবেন।

১১। অধিবেশন, কোরাম ও ভোট

১) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের অনুরূপ পদ্ধতিতে পরিষদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান হবে;

২) ন্যূনতম ৬০ সদস্য উপস্থিতি বাধ্যতামূলক;

৩) সংবিধান সংস্কার প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট প্রয়োজন; সমসংখ্যক ভোট হলে সভাপ্রধান নির্ণায়ক ভোট দেবেন।

১২। পরিষদের বিশেষ অধিকার ও দায়মুক্তি

পরিষদের কার্যধারার বৈধতা ও সদস্যদের অধিকার জাতীয় সংসদের সমান হবে।

১৩। সংবিধানে অন্তর্ভুক্তকরণ

জুলাই জাতীয় সনদ সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হবে।

১৪। অবিলম্বে কার্যকর করা

১) সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন হলে যত দ্রুত সম্ভব কার্যকর হবে;

২) ৪৫ পঞ্জিকা দিনের মধ্যে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে;

৩) উচ্চকক্ষের মেয়াদ নিম্নকক্ষের মেয়াদ পর্যন্ত হবে;

৪) সাধারণ নির্বাচনের সময় প্রার্থী তালিকা প্রকাশের প্রয়োজন নেই;

৫) উচ্চকক্ষ গঠনে প্রতিবন্ধকতা দূর করতে পরিষদ বিধান প্রণয়ন ও সরকার নির্দেশনা জারি করতে পারবে।

১৫। চূড়ান্তকরণ ও প্রকাশ

১) পরিষদ গঠনের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার চূড়ান্ত হবে;

২) সরকার সরকারি গেজেটে সংবিধান সংস্কারের পূর্ণাঙ্গ পাঠ প্রকাশ করবে।

১৬। সরকারী নির্দেশনা

প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করতে পারবে।


স্বদেশ প্রতিদিন/এমএএম



আরও সংবাদ   বিষয়:  জুলাই জাতীয় সনদ  






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close