প্রকাশ: সোমবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৫, ৯:৩১ পিএম আপডেট: ২৭.১০.২০২৫ ৯:৪০ PM

নির্মমভাবে নিহত কলেজ ছাত্র তুহিন
কুমিল্লার বুড়িচংয়ে প্রেমঘটিত বিরোধের জেরে নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন এরশাদ ডিগ্রি কলেজের মেধাবী ছাত্র তুহিন (১৯)। পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের ইতালি প্রবাসী ও সাবেক আওয়ামী নেতা সাইফুল ইসলাম বাবু এঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রবাসী বাবুর মেয়ে প্রায় ১৫ দিন আগে তার প্রেমিক উজ্জ্বলের সঙ্গে বিয়ে করে পালিয়ে যায়। এতে ক্ষুব্ধ বাবু ধারণা করেন, তুহিনসহ স্থানীয় কয়েকজন তরুণ এই বিয়েতে সহযোগিতা করেছে। পরে তিনি উজ্জ্বলের ছয়জন বন্ধুকে পুলিশ দিয়ে আটক করান।
পুলিশি হয়রানির মধ্যেই বাবু জানতে পারেন, তার মেয়ের সঙ্গে তুহিনের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বাবু ও তার সহযোগীরা ২০ অক্টোবর তুহিনকে ধরে নিয়ে বেধড়ক মারধর করে। নির্যাতনে গুরুতর আহত তুহিনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন ২৭ অক্টোবর।
তুহিনের পরিবার শুরুতে থানায় মামলা করতে গেলে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের চাপের কারণে পুলিশ মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। পরে জামায়াত নেতা মুমিনুল হকের উদ্যোগে ২৩ অক্টোবর মামলা দায়ের করা হয়।
তুহিনের মৃত্যুর পর প্রধান আসামি বাবু ইতালিতে পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে এলাকাজুড়ে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—মামলা দায়েরের পরও কেন অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়নি?
বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, “তুহিন হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতারে আমরা সক্রিয় আছি। অপরাধীরা পলাতক, তবে অভিযান চলছে।”
অন্যদিকে, তুহিন হত্যায় দ্রুত বিচার না হলে বিক্ষোভ ও বুড়িচং উপজেলা অবরোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় তরুণ নেতারা।
স্বদেশ প্রতিদিন/ নিয়াজ