প্রকাশ: সোমবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৫, ৮:৩২ পিএম

প্রতীকী ছবি
নড়াইল সদরে এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও করা হয়েছে।
রোববার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম অভিযুক্ত শিক্ষককে বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, মাগুরা কালুখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. তরিকুল ইসলাম নিয়মিত শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে কোচিং করাতেন। চলতি মাসের ১৫ অক্টোবর কোচিং শেষে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানি সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়। নড়াইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নড়াইলের ২১ অক্টোবরের স্মারকের প্রস্তাব মোতাবেক 'সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাকে সরকারি চাকরি হতে সাময়িক বরখাস্ত আদেশ প্রদান করা হলো।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে ছাত্রী শ্লীলতাহানির অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ও হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) রাতে ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবার শিক্ষক মো. তরিকুল ইসলামকে একমাত্র অভিযুক্ত করে থানায় ধর্ষণ চেষ্টা মামলা করেন। মামলায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারের দাবি, চলতি মাসের ১৫ তারিখ বিকেলে স্কুল ছুটির পর একটি শ্রেণির ৪ জন শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে প্রাইভেট পড়াচ্ছিলেন মো. তরিকুল ইসলাম। এসময় ছাত্রীকে একা পেয়ে রুমের দরজা চাপিয়ে দিয়ে শিক্ষার্থীর স্পর্শকাতর স্থানে খারাপভাবে স্পর্শ করে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। পরে শিক্ষার্থীর চিৎকার ও কান্নার শব্দে তার অন্য সহপাঠীরা ছুটে এসে দরজা ধাক্কা দিয়ে খোলেন।
এমন কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীরা দেখে ফেলায় তাদেরকে আবেগাপ্লুত করে কাউকে না জানানোর অনুরোধ করেন অভিযুক্ত ওই শিক্ষক। শিক্ষার্থী বাড়িতে গিয়ে তার মাকে জানালে, সামাজিক অবস্থান ও সম্মানহানির ভয়ে চুপ থাকেন সকলে। ঘটনার তিনদিন পর ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের পুরুষ সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন। এ বিষয়টিকে ধামাচাপা দিতে ও ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে অভিযুক্ত শিক্ষক স্থানীয় পর্যায়ে তদবির চালান।
ভুক্তভোগী পরিবারের এক সদস্য অভিযোগ করে বলেন, ঘটনা ১৫ অক্টোবর ঘটেছে, কিন্তু আমরা জেনেছি ১৮ তারিখ। স্কুলে আমাদের ছোটো বাচ্চাকে ভয়-ভীতি দেখানোর পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিকভাবে আমাদেরকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। সবকিছু উপেক্ষা করে সামাজিক সম্মানহানিকে তুচ্ছ করে থানায় গিয়েছিলাম ন্যায় বিচার পাবার আশায়।
নড়াইল সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) মো. মাসুদ রানা বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক তরিকুলকে আমরা এখনো গ্রেফতার করতে পারিনি। তাকে ধরতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ এমএস