প্রকাশ: রবিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৫, ৮:৩২ পিএম

বেনাপোলে স্থলবন্দরে সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় বিপাকে পরেছেন বন্দরে আমদানি-রপ্তানিকারক ব্যবসায়ীরা। আকস্মিক এই সিদ্ধান্তে রাজস্ব এবং বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
গত এক সপ্তাহ ধরে স্থলবন্দর দিয়ে সন্ধ্যা ৬টার পর সব ধরনের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান। এতে দুই দেশের সীমান্তে পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ জটের সৃষ্টি হয়েছে। বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ী আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকরা।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলছে, সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বলছেন, এ ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে ঠিক, তবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা বলেন, কয়েকদিন আগে আমাদের সঙ্গে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের একটি বৈঠক হয়েছিল। তারা প্রস্তাব করেছিল সন্ধ্যা ৬ টার পর আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রাখার জন্য। আমরা বলেছিলাম, বন্দর ব্যবহারকারী সবার সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি জানানো হবে।
এ বিষয়ে জানতে বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার খালিদ মো. আবু হোসেনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেও কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বেনাপোলে বন্দর ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মতিউর রহমান বলেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যবসায়ী, কর্মচারী এবং সরকারও। তিনি বলেন, তারা কাস্টমস কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেছেন। প্রতিদিন অন্তত ৪০০-৫০০ আমদানিমুখী ট্রাক প্রবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
ভারতের পেট্রাপোল ক্লিয়ারিং এজেন্ট স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, বাংলাদেশের এই একতরফা সিদ্ধান্তে ভারতীয় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দুই দেশের বাণিজ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন হাজারেরও বেশি ট্রাক পণ্য নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতো পেট্রাপোল বন্দরে। বিগত সময়ে রাত ১২টা পর্যন্ত আমদানি-রপ্তানি চালু ছিল।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন বলেন, আমরা বন্দর পরিচালনা করি। তবে কাস্টমস অনুমোদন ছাড়া কোনো পণ্য ক্লিয়ার করা সম্ভব না।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএস