
সংগৃহীত ছবি
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সব রাজনৈতিক দলকে তাদের দলীয় স্বার্থের বাইরে চিন্তা করে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। তিনি আরও বলেন, যত ধরনের কাঠামোগত সংস্কারই করা হোক না কেন আগে মানসিকতায় পরিবর্তন আনতেই হবে—নাহলে সেগুলো আইনগত বাস্তবায়নে রূপান্তর করা সম্ভব হবে না। গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের শক্তিশালী ও আইনগত রূপায়নই জাতিকে মুক্তি দেবে। দেশীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে সবাইকে এক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানালেন তিনি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন হলে ‘চব্বিশোত্তর বাংলাদেশে তারুণ্যের ভাবনায় শিক্ষা ও কর্মসংস্থান’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)-এ সেমিনারের আয়োজন করে।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, সবক্ষেত্রে মেধা, জ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে হবে। সমাজের যে স্তরেই আমরা কাজ করি না কেন, আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকা ব্যাপক। কারণ তারা তরুণ প্রজন্মকে শেখান।
তিনি বলেন, আমাদের জনসংখ্যার কর্মসংস্থান অবশ্যই করতে হবে। এক্ষেত্রে শুধু সরকারের ওপর নির্ভরশীল হলে চলবে না; বরং আত্মনির্ভরশীল হয়ে নিজ উদ্যোগে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা যে পরিবর্তন আশা করছি তা সর্বত্রই হতে হবে। দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন শুধু বৈষম্যমূলক চাকরি ব্যবস্থা বা কর্মসংস্থানের জন্য নয়। সেটি ছিল দীর্ঘ ১৫/১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ শাসনের বিরুদ্ধে জনরোষের বহিঃপ্রকাশ। যে কারণে দ্রুত গতিতে এক দফার ভিত্তিতে সরকারবিরোধী আন্দোলন তীব্র হয় এবং বহু লড়াই সংগ্রাম ও রক্তের মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গতকাল এক রাজনৈতিক দল অভিযোগ করেছে—চাপের মুখে পড়ে নাকি আমরা জুলাই সনদের গণভোট প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছি। আসলে আমরা বলেছি, জাতীয় নির্বাচনের দিনই জুলাই সনদ নিয়ে গণভোট আয়োজন করা যেতে পারে। বর্তমানে একটি দল ওই সনদে স্বাক্ষর করার সুযোগ খুঁজছে, যদিও তাদের কিছু শর্ত ও দাবি রয়েছে। আমরা আশাবাদী, আলোচনার মাধ্যমে এর একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য সমাধান হবে।
ইউট্যাবের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রোভিসি অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, ইউট্যাবের মহাসচিব অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন, জাতিসংঘের সাবেক চিফ অব স্টাফ রেহান এ আসাদ।
স্বদেশ প্রতিদিন/নিয়াজ