প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৫, ১২:৫৮ AM আপডেট: ২১.১০.২০২৫ ১:০২ এএম

ফাইল ছবি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী এবং শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জোবায়েদ হোসেন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
সোমবার (২০ অক্টোবর) রাতে ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, এই হত্যা মামলার তদন্ত অনেকদূর এগিয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম।
বংশাল থানা সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে এখন পর্যন্ত চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন নিহত জোবায়েদের টিউশনি ছাত্রী এবং প্রধান আসামি হিসেবে চিহ্নিত মাহির রহমান।
জানা যায়, নিহত জোবায়েদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং কুমিল্লা জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বও পালন করছিলেন। গত এক বছর ধরে তিনি পুরান ঢাকার আরমানিটোলার নূরবক্স লেনের ‘রৌশান ভিলা’তে ওই ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়াতেন।
গত রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নূরবক্স লেনে টিউশনে যাওয়ার সময় বাসার নিচে ছুরিকাঘাতের শিকার হন জোবায়েদ। ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে গিয়ে তিনি তৃতীয় তলায় পড়ে মারা যান। ঘটনার পর রাতেই সংশ্লিষ্ট ছাত্রীকে আটক করে পুলিশ।
তদন্তে জানা গেছে, আটক মাহির রহমান ওই ছাত্রীর সঙ্গে প্রায় ৯ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন। সম্প্রতি সম্পর্কটি ভেঙে যাওয়ায় মাহির ক্ষুব্ধ ছিলেন। ঘটনার দিন টিউশনে যাওয়ার পথে মাহিরের সঙ্গে জোবায়েদের মুখোমুখি দেখা হলে বাগবিতণ্ডা হয়। কিছুক্ষণ পরেই ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যা ৬টার দিকে মাহির রক্তমাখা হাতে বাড়িতে ফেরেন বলে জানা গেছে। পরদিন সকালে তার মা ছেলেকে থানায় নিয়ে গিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
এদিকে, সোমবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে জোবায়েদের প্রথম জানাজা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়। পরে তার মরদেহ পরিবার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে দাফন সম্পন্ন করে।
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো