বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু গণহত্যার জন্য আওয়ামী লীগকে বলেছেন, গণহত্যার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চান, মাফ চান, বিচারের মুখোমুখি হন। তিনি বলেন, শেখ মুজিবও বাংলাদেশে গণহত্যা করেছিলেন।
আজ বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এক নাগরিক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
দলটি এখনও বুঝে না- তারা গণহত্যা করেছে উল্লেখ করে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, “আগামী দিনে যদি কেউ ষড়যন্ত্র করে বর্তমান সরকারকে পতনের মুখে ঠেলে দিতে চায়, তাহলে সে ষড়যন্ত্রের অগ্রভাগে থাকবে পতিত আওয়ামী লীগ। বোধহয় কন্যা তার পিতার সেই পথই অনুসরণ করেছেন।”
গণহত্যার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চান, মাফ চান, বিচারের মুখোমুখি হন উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের উদ্দেশে তিনি বলেন, “যেখানেই লুটপাট ও চুরি করা অর্থ রেখেছেন, তা ফেরত দিন। এরপরই বিবেচনা করা যাবে- আওয়ামী লীগ রাজনীতি করতে পারবে কি না। আপনারা যে অপরাধ করেছেন, তার বিচার হওয়া জরুরি, এমনকি ফাঁসির দণ্ডও প্রাপ্য।”
নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোনো অবস্থায়ই ফেব্রুয়ারি মাস অতিক্রম করা যাবে না। এই সময়ের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠান করে একটি নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দেশের জনগণ কোনো ধরনের বিলম্ব বা ভিন্নতা মেনে নেবে না। কোনো ধরনের টালবাহানা বা বিলম্ব সহ্য করবে না। নির্বাচনের প্রশ্নে যদি দ্বিধা বা বিলম্ব ঘটে, তাহলে একদিন এই সরকারকে ইতিহাসে জবাবদিহি করতে হতে পারে।”
ভারত এবং শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই নেতা বলেন, “হাসিনা ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। এটি এক বিরল ঘটনা। খুনিকে কেউ আশ্রয় দেয়? গণতন্ত্র ধ্বংসকারীকে কেউ আশ্রয় দেয়? সীমাহীন লুটপাটকারীকে কেউ আশ্রয় দেয়? এমন দৃষ্টান্ত পৃথিবীতে খুব কমই দেখা যায়। ভারত একজন অভিযুক্ত হত্যাকারীকে, গণতন্ত্র ধ্বংসকারীকেও, লুটপাটকারী সরকারপ্রধানকেও আশ্রয় দিয়েছে- এই অভিযোগ বাংলাদেশের মানুষ তুললে ভারত এ বিষয়ে কী জবাব দেবে, তা আমার জানা নেই।”