চাকসু নির্বাচন: ফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল-শিবিরের উত্তেজনা, প্রো-ভিসি অবরুদ্ধ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৫, ২:৪১ AM আপডেট: ১৬.১০.২০২৫ ২:৪৫ এএম

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনের ফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনা ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে প্রকৌশল অনুষদ ভবনের সামনে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়।
ঘটনার সময় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিনকে ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ করা হয়। ছাত্রদল অভিযোগ করেন, সোহরাওয়ার্দী হল সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে তাদের প্রার্থী জমাদিউল আওয়ালকে কারচুপির মাধ্যমে পরাজিত দেখানো হয়েছে। ঘোষিত ফলাফলে জমাদিউল পেয়েছেন ১,২০৩ ভোট, আর ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্রার্থী নেয়ামত উল্লাহ পেয়েছেন ১,২০৬ ভোট। ছাত্রদলের এক কর্মী বলেন, প্রকৌশল অনুষদে দর্শন ও সংস্কৃত বিভাগের শিক্ষার্থীরা ভোট দিয়েছেন, অথচ জমাদিউল মাত্র তিন ভোট পেয়েছেন, যা কারচুপির ফল বলে তারা দাবি করেন।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন জানান, তিনি ফলাফল ঘোষণা শেষে বেরোতে গেলে একদল শিক্ষার্থী এসে ৩১২ নম্বর কক্ষে ভোট পুনঃগণনার দাবি জানায়। তিনি তাদের নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বললেও তারা মানেনি এবং তাকে ভবনের ভেতরে আটকে রাখে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, রাত সোয়া ১২টার দিকে সমাজবিজ্ঞান অনুষদে ডিন কার্যালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. এনায়েত উল্যা পাটওয়ারী ফল ঘোষণা করেন। এতে দেখা যায়, ভিপি পদে ছাত্রদলের সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় এগিয়ে রয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রশিবিরের ইব্রাহিম রনি ৯০ ভোট পেয়ে পিছিয়ে আছেন। জিএস পদে ছাত্রদলের মো. শাফায়াত হোসেন ১৬৪ ভোট পেয়েছেন, শিবিরের সাঈদ বিন হাবিব ৮৩ ভোট পেয়েছেন।
চাকসু নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৭,৫১৬। কেন্দ্রীয় সংসদের ২৬টি পদে ৪১৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এছাড়া ১৪টি হল ও ১টি হোস্টেলে ২৪টি পদের জন্য ৪৯৩ জন প্রার্থী লড়েছেন। সহসভাপতি (ভিপি) পদে ২৪ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ২২ জন এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে ২২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নির্বাচনে মোট ১৩টি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এর মধ্যে প্রধান প্যানেলগুলো: ছাত্রদল, ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’, বামপন্থী ছাত্রসংগঠন ও সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো গঠিত ‘বৈচিত্র্যের ঐক্য’, যৌথ প্যানেল ‘দ্রোহ পর্ষদ’, এবং জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ‘বিনির্মাণ শিক্ষার্থী ঐক্য’। মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা এই প্যানেলগুলোর মধ্যে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ