
নারী-পুরুষের মধ্যে পরস্পরের প্রতি আকর্ষণ স্বাভাবিক। বৈধ ভালোবাসায় সন্তুষ্ট হওয়ার একমাত্র হালাল পথ হলো বিয়ে। দাম্পত্য জীবন তখনই সুখময় হয় যখন স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে। তবে আজকাল পাত্র বা পাত্রীর যোগ্যতা নির্ণয় প্রায়ই শুধু পুরুষের অর্থনৈতিক অবস্থা বা নারীর বাহ্যিক সৌন্দর্যের ওপর নির্ভর করে, যা ফলপ্রসূ বিয়ে নিশ্চিত করে না।
প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “রমণীকে তার অর্থ, আভিজাত্য, রূপ-সৌন্দর্য ও দ্বীন-ধর্ম দেখে বিয়ে করা হয়। কিন্তু তুমি দ্বীনদারকে পেয়ে কৃতকার্য হও।”
(মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস: ৩০৮২)
আরও উল্লেখ রয়েছে, নবীজি বলেন, “প্রত্যেকের কৃতজ্ঞতা আদায়কারী অন্তর ও মহান আল্লাহর জিকিরকারী জিহবা থাকা উচিত। এমন মুমিন স্ত্রী গ্রহণ করো, যে আখেরাতের কাজে তোমাকে সহায়তা করবে।”
(ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৮৫৬)
বিয়ের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো সন্তান গ্রহণ। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন, “অধিক প্রেমময়ী, অধিক সন্তানদাত্রী রমণী বিয়ে কর। কারণ, আমি তোমাদের নিয়ে কেয়ামতের দিনে অন্যান্য উম্মতের সামনে গর্ব করব।”
(মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদিস: ৩০৯১)
সাধারণত মানুষ নারীর চারটি দিক লক্ষ্য করে বিয়ে করার চেষ্টা করে—সম্পদ, বংশমর্যাদা, রূপ-সৌন্দর্য এবং ধর্মপরায়ণতা। তবে কেবল সৌন্দর্যের ওপর নির্ভর করলে দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক গড়ে ওঠে না। বাহ্যিক রূপ অস্থায়ী, কিন্তু সৎ চরিত্র ও দ্বীনদারিতা সময়ের সঙ্গে বাড়তে থাকে। ধর্মপরায়ণ ও সৎ চরিত্রের ওপর ভিত্তি করে বিয়ে করা দাম্পত্য জীবনকে মজবুত, দীর্ঘস্থায়ী ও আনন্দময় করে।
প্রখ্যাত সাহাবি হজরত আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) বর্ণনা করেছেন, নবীজি বলেছেন, “সম্পূর্ণ পৃথিবী সম্পদ, আর পৃথিবীর সবচেয়ে উত্তম সম্পদ হচ্ছে সৎ চরিত্রবান নারী।”
(মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস: ৩০৮৩)
এভাবে দেখলে বোঝা যায়, ইসলামে স্ত্রী নির্বাচন মূলত ধর্মপরায়ণতা, চরিত্র ও দ্বীনদারিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে। বাহ্যিক রূপ এবং ধন-সম্পদের চেয়ে এই গুণাবলী দীর্ঘমেয়াদে সুখী দাম্পত্যের ভিত্তি স্থাপন করে।
সুত্রঃ মুফতি জাকারিয়া হারুন