প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৫, ৬:০৮ পিএম

তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মুক্ত শর্মা
পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে দুরারোগ্য ব্রেইন স্ট্রোক রোগে আক্রান্ত তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশু মুক্ত শর্মা (১১) বাঁচতে চায়।
সে উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের হতদরিদ্র দীপক শর্মা ও মুক্তা রানী শর্মা দম্পতির ছেলে এবং রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। অসুস্থতার কারণে তার স্কুলে যাওয়া বন্ধ রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার অভাবে যত দিন যাচ্ছে স্কুলছাত্র শিশু মুক্ত শর্মার অসুস্থতা ততই বেড়ে যাচ্ছে। দুর্বল হয়ে পড়ছে সে। এভাবে সময় পার হলে এ সুন্দর পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করবে, এমন আশঙ্কা করছে মুক্ত শর্মার পরিবার।
মুক্ত শর্মার বাবা, সেলুন ব্যবসায়ী দীপক শর্মা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ২০২৪ সালে ছেলের ব্রেইন স্ট্রোক হয়। রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের স্নায়ুরোগ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ নিউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সুকুমার মজুমদারের চিকিৎসা নিয়েছি। তার পরামর্শ নিয়ে বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোলজি বিভাগের স্ট্রোক অ্যান্ড ইন্টারভেনশনাল হেড অধ্যাপক ডা. সুভাষ কান্তি দের চিকিৎসাধীন রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, মুক্ত শর্মাকে বাঁচাতে হলে দ্রুত ব্রেইন অপারেশন করতে হবে। এতে প্রায় ৮ লক্ষ টাকা খরচ হতে পারে।
মুক্ত শর্মার বাবা-মা কেঁদে কেঁদে বলেন, ছেলের চিকিৎসা খরচ মেটাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছি। ভিটেবাড়ির জমিটুকুও বিক্রি করে তার চিকিৎসা খরচ চালিয়েছি। পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসা করানোর মতো আর কোনো সহায়-সম্বল নেই। শিশুটির বাবা-মা সন্তানের এমন অবস্থায় বাকরুদ্ধ। চোখে-মুখে অন্ধকার ছাড়া কিছুই দেখছেন না। তাঁদের আপন সন্তানের চিকিৎসায় এত টাকা কোথায় পাবেন, তা নিয়ে চিন্তিত। কে দেবে এত টাকা, তাও বলতে পারছেন না।
এমতাবস্থায় ফুটফুটে ১১ বছর বয়সী এ শিশুটির জীবন বাঁচাতে পরিবারের পক্ষ থেকে সমাজের বিত্তবান, দানশীল ব্যক্তি, বিভিন্ন সাহায্য সংস্থা ও দেশ-বিদেশের হৃদয়বান মানুষের কাছে আর্থিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।
রোগাক্রান্ত শিশু মুক্ত শর্মার আকুতি, আপনারা আমাকে বাঁচাতে সাহায্য করুন, আমি বাঁচতে চাই। আমি ভালো হয়ে স্কুলে পড়তে যাব।