
একই রিপোর্ট হুবহু ছাপাসহ একাধিক নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে ময়মনসিংহ থেকে প্রকাশিত ১১টি সংবাদপত্রের ঘোষণাপত্র (ডিক্লারেশন) বাতিল করেছে জেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) এই আদেশ জারি করা হলেও রবিবার ও সোমবার সংশ্লিষ্ট পত্রিকাগুলোর সম্পাদক ও প্রকাশকদের কাছে চিঠি হস্তান্তর করা হয় বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) উম্মে হাবীবা মীরা।
ডিক্লারেশন বাতিল হওয়া পত্রিকাগুলো হলো- শামসুল আলম খান সম্পাদিত দৈনিক আজকের ময়মনসিংহ; এফ এম এ ছালাম সম্পাদিত দৈনিক দেশের খবর; এন বি এম ইব্রাহীম খলিল রহিম সম্পাদিত দৈনিক বিশ্বের মুখপত্র; মরহুম আবদুর রাজ্জাক তালুকদার সম্পাদিত দৈনিক ঈষিকা; নাসির উদ্দিন আহমেদ সম্পাদিত দৈনিক অদম্য বাংলা; আ ন ম ফারুক সম্পাদিত দৈনিক আলোকিত ময়মনসিংহ ও দৈনিক দিগন্ত বাংলা; মরহুম রেবেকা ইয়াসমিন প্রকাশিত দৈনিক জাহান; ওমর ফারুক সম্পাদিত দৈনিক কিষানের দেশ; ফরিদা ইয়াসমীন রত্না সম্পাদিত হৃদয়ে বাংলাদেশ ও বিকাশ রায় সম্পাদিত সাপ্তাহিক পরিধি।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) উম্মে হাবীবা মীরা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ছাপাখানা ও প্রকাশনা (ঘোষণা ও নিবন্ধীকরণ) আইনের কিছু ধারা লঙ্ঘন করে পত্রিকাগুলো প্রকাশিত হচ্ছিল। আইনের লঙ্ঘন করায় তাদের ডিক্লারেশন বাতিল করা হয়েছে।’
চলতি বছরের ৮ এপ্রিল, একযোগে ১৩টি পত্রিকাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেয় জেলা প্রশাসন। কারণ, ওই দিন তাদের দুটি পাতায় সব প্রতিবেদনে ছিল হুবহু মিল।
তবে এর মধ্যে দৈনিক সবুজ ও দৈনিক নিউ টাইমস সঠিকভাবে জবাব দিয়ে অনুমতি নিয়েছে, ফলে বাকি ১১টি পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিল করা হয়েছে।
এডিএম উম্মে হাবীবা মীরা জানান, ‘আইনের কিছু ধারা লঙ্ঘন করে এই পত্রিকাগুলো প্রকাশিত হচ্ছিল। ছাপাখানার ঠিকানা পরিবর্তন করে নতুন জায়গা থেকে প্রকাশের জন্য অনুমতি নিতে হয়, যা তারা নেয়নি।’
জেলা প্রশাসনের অফিস থেকে আরও জানানো হয়, বৃহস্পতিবারই আদেশ দেওয়া হলেও ফোন করে সবাইকে চিঠি সংগ্রহের অনুরোধ জানানো হয়। সোমবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল ৪টা পর্যন্ত ছয়টি পত্রিকা চিঠি গ্রহণ করেছে।
ডিক্লারেশন বাতিলের বিষয়ে হাসিম উদ্দিন বলেন, ‘পত্রিকা যখন প্রকাশ শুরু হয় তখন এ অঞ্চলে কোনো সংবাদপত্র ছিল না। গত পাঁচ-ছয় মাস আগে আমাদের ছাপাখানায় মেশিন সমস্যা দেখা দেওয়ায় অন্য একটি ছাপাখানা থেকে পত্রিকা প্রকাশ করছিলাম। এজন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদনও জমা দেওয়া ছিল। আমাদের ছাপাখানার মেশিন বসানোর কাজ চলছে। এখন হঠাৎ করে ডিক্লারেশন বাতিলের খবরে আমরা দিশেহারা।’
তিনি আরও বলেন, ‘১৯৮০ সাল থেকে আমরা পত্রিকা প্রকাশ করে আসছি। এখন হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে গেলে কর্মচারীদের কী হবে, পাঠক কোথায় যাবে, কিছুই বুঝতে পারছি না।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম