প্রকাশ: বুধবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৫, ৩:৪৫ পিএম

সংগৃহীত ছবি
সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পটুয়াখালীর দুমকিতে চলছে মা ইলিশ শিকারের মহোৎসব। প্রজনন মৌসুমে অভিযান থাকলেও পায়রা, পাতাবুনিয়া ও লোহালিয়া নদীতে দিন-রাত সমান তালে চলছে অবাধ শিকার।
জনবল ও দ্রুতযান সংকটে প্রশাসনের অভিযান মন্থর হয়ে পড়ায় সুযোগ নিচ্ছেন জেলেরা। উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়হীনতায় অনেক জেলে পরিবারের শিশু-কিশোররাও নেমে পড়ছে ইলিশ ধরতে।
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, উপজেলার পাংগাশিয়া, আঙ্গারিয়া, লেবুখালী ও মুরাদিয়া ইউনিয়নের অন্তত ১১টি পয়েন্টে দিন-রাত চলছে মা ইলিশ শিকার। নিষেধাজ্ঞা শুরুর পর থেকেই (৪ অক্টোবর) জেলেরা কৌশলে অভিযান এড়িয়ে মাছ ধরছে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় শিশু-কিশোরদের ব্যবহার করা হচ্ছে নদীতে।
অভিযান টের পেলেই মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাঠিয়ে জেলেরা দ্রুত পালিয়ে যায় বাউফল, মির্জাগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জের খাল-ঝোপে। অভিযান শেষ হলে ফের জাল ফেলে রাতভর চলে ইলিশ আহরণ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধরা ইলিশ প্রকাশ্যে বিক্রি না করে গোপনে পাইকারদের কাছে বিক্রি হচ্ছে। হাজিরহাট, লেবুখালী ফেরিঘাট, আঙ্গারিয়া বন্দর ও পাতাবুনিয়া বাজারসহ অন্তত ১১টি ঘাটে ককশেডে মজুত রাখা হচ্ছে এসব ইলিশ।
প্রশাসনিক দুর্বলতা ও সমন্বয়হীনতার কারণে মা ইলিশ শিকার পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না বলে জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৪ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত অভিযানে ৪টি নৌকা ও ১ লাখ ৯০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। আটক পাঁচ জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং এক কিশোরকে মুচলেকায় মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, জনবল ও দ্রুতযান সংকট সত্ত্বেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. এজাজুল হক বলেন, জেলেরা কৌশলে পালিয়ে গেলেও পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। স্থানীয়দের সহযোগিতা পেলে শতভাগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো