প্রকাশ: বুধবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৫, ২:৪২ পিএম

ময়মনসিংহের নান্দাইলে দরিদ্র মানুষের ঘর ও মসজিদ নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। শারজাহ চ্যারিটি ইন্টারন্যাশনাল (এসসিআই) নামে পরিচিত এই সংস্থার স্থানীয় সমন্বয়ক পরিচয় দেওয়া মাসুদ মিয়া নামের এক ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা এ প্রতারণার সাথে জড়িত বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের শুরুতে নান্দাইল উপজেলার চন্ডীপাশা ইউনিয়নের ডাংরী গ্রাম ও মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের তীতখলা গ্রামের মোট ৪৬ জন অসহায় নারী এবং পাঁচটি মসজিদ কমিটির কাছ থেকে ঘর ও মসজিদ নির্মাণের নামে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেয় চক্রটি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাসুদ মিয়া নিজেকে এসসিআইয়ের নান্দাইল উপজেলার সমন্বয়ক হিসেবে পরিচয় দেন এবং আরও কয়েকজনকে সাথে নিয়ে এলাকায় গিয়ে ঘর ও মসজিদের আকর্ষণীয় মডেল ছবি দেখিয়ে দ্রুত কাজ শুরু করার আশ্বাস দেন। এরপর প্রতিটি ঘরের জন্য নিবন্ধন ফি হিসেবে ১০ হাজার এবং প্রতিটি মসজিদের জন্য ২০ হাজার টাকা নেওয়া হয়।
এই অর্থ স্থানীয়দের মাধ্যমে সংগৃহীত হয়ে ডাংরীর আব্দুল আলী ভূঁইয়া ও মোয়াজ্জেমপুরের শরিফুল ইসলামের কাছে জমা রাখা হয়েছিল। পরে মাসুদ এসে এসব টাকা নিয়ে যান। এরপর থেকেই তার আর কোনো সন্ধান মিলছে না। মাসুদের একাধিক মোবাইল নম্বরে কল করা হলেও সবগুলোই বন্ধ পাওয়া গেছে।
ডাংরী গ্রামের আনোয়ারা খাতুন বলেন, ‘আমি ধারদেনা করে ২৪ হাজার টাকা দিই। এখন জানি না এই টাকা আদৌ ফেরত পাব কি না।’
অন্যদিকে শরিফুল ইসলাম জানান, প্রথমে কিছু ইট এনে রাখা হয়েছিল। তা দেখিয়ে পরে আরও টাকা নেওয়া হয়। এরপর আর কারও খোঁজ নেই।
মাসুদের ভাই সহিদ মিয়া বলেন, ‘এসব প্রতারণামূলক কাজের জন্যই সে পরিবার থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।’
ডাংরী ও তীতখলা গ্রামের বেশ কয়েকজন জানান, এলাকায় এখন ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকেই সর্বস্ব হারিয়ে হতাশায় ভুগছেন।
নান্দাইল থানার ওসি খন্দকার জালাল উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কেউ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সারমিনা সাত্তার বলেন, ‘ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে বিস্তারিত শুনে প্রতারকচক্রের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম