ড. ইউনূসের নেতৃত্ব অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে নতুন মাত্রা দিয়েছে: গুইন লুইস

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গুইন লুইস প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন।
সাক্ষাতে গুইন লুইস বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল ও প্রধান উপদেষ্টার নিউইয়র্ক সফরকে অত্যন্ত সফল বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ওই সফরে প্রধান উপদেষ্টা বিশ্বনেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সম্মেলনে বক্তব্য রেখেছেন।
লুইস শীর্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তি জাতীয় ঐক্যের শক্তিশালী উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। সাক্ষাতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে টেকসই সহযোগিতা, উদ্ভাবন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
দায়িত্বকালে লুইস বলেন, বাংলাদেশের মানুষের দৃঢ়তা, সৃজনশীলতা ও উদারতা প্রত্যক্ষ করা তার জন্য গভীর অনুপ্রেরণাদায়ক অভিজ্ঞতা ছিল। তিনি অধ্যাপক ইউনূসের সামাজিক উদ্ভাবন ও ন্যায়বিচারের প্রতি আজীবন নিষ্ঠা বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।
গুইন লুইসের সময়কালে জাতিসংঘ বাংলাদেশে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়ন, মানবকল্যাণ, পরিবেশগত সহনশীলতা, অংশগ্রহণমূলক শাসন এবং লিঙ্গসমতা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে।
তার সময়ে ঢাকায় জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনারের কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়, যা মানবাধিকার কার্যক্রম এবং অধিকারভিত্তিক উন্নয়ন সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
লুইস বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি, শ্রম, স্বাস্থ্য, শিক্ষা খাতে সংস্কারমূলক উদ্যোগ এবং জলবায়ু কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়াকে প্রশংসা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, বৈশ্বিক উদ্যোগ যেমন ‘সবার জন্য আগাম সতর্কবার্তা’, ‘শিক্ষা রূপান্তর উদ্যোগ’ এবং ‘খাদ্য ব্যবস্থা সম্মেলন’-এ বাংলাদেশের অগ্রগতি দৃঢ়।
শেষে গুইন লুইস বলেন, জাতিসংঘ ও বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব সমৃদ্ধ, জলবায়ু-সহনশীল ভবিষ্যতের জন্য যৌথ মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এবং সব কর্মকাণ্ডে মানবাধিকার ও লিঙ্গসমতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি অটুট।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ