প্রকাশ: সোমবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৫, ৩:১৪ পিএম আপডেট: ০৬.১০.২০২৫ ৩:২৭ PM

বিজ্ঞানীরা একটি যুগান্তকারী আবিষ্কার করেছেন, যা স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় বিপ্লব ঘটাতে পারে। তারা পেয়েছেন যে মৌমাছির বিষে থাকা একটি প্রাকৃতিক যৌগ, মেলিটিন (melittin), মাত্র এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে আগ্রাসী স্তন ক্যানসার কোষগুলোকে কার্যকরভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম।
মেলিটিন কী এবং কীভাবে কাজ করে?মেলিটিন হল মৌমাছির বিষের একটি প্রধান উপাদান, যা বিশেষ ধরনের প্রোটিন। এটি ক্যানসার কোষের বাইরের ঝিল্লিতে ছোট ছোট ছিদ্র তৈরি করে, যা কোষগুলোকে দ্রুত ধ্বংস করে দেয়। এ প্রক্রিয়ায় ক্যানসার কোষের মৃত্যু ঘটে দ্রুত এবং কার্যকরভাবে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মেলিটিন ভোমরার বিষে থাকে না এবং এটি সুস্থ কোষকে প্রভাবিত করে না, যার ফলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক কম হয়।
প্রচলিত চিকিৎসার তুলনায় মেলিটিনের সম্ভাবনাবর্তমানের কেমোথেরাপি ও রেডিয়েশন থেরাপিতে শরীরের সুস্থ কোষও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা বিভিন্ন ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু মেলিটিন নির্দিষ্টভাবে ক্যানসার কোষগুলোকে টার্গেট করে কাজ করে, ফলে সুস্থ কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। এই কারণে মেলিটিনভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতি অনেক বেশি নিরাপদ এবং লক্ষ্যভিত্তিক হতে পারে।
ট্রিপল-নেগেটিভ ও HER2-এনরিচড স্তন ক্যানসারে কার্যকারিতা
মেলিটিন বিশেষভাবে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে ট্রিপল-নেগেটিভ ব্রেস্ট ক্যানসার (TNBC) এবং HER2-এনরিচড ব্রেস্ট ক্যানসার-এর মতো দুটি অত্যন্ত কঠিন ও জটিল স্তন ক্যানসার চিকিৎসায়। এই দুই ধরনের ক্যানসার সাধারণত চিকিৎসায় চ্যালেঞ্জিং এবং রোগীর পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি থাকে বেশি। মেলিটিন নতুন চিকিৎসা বিকল্প হিসেবে এই ধরনের ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আশার আলো জ্বালিয়েছে।
বর্তমানে বিজ্ঞানীরা মেলিটিনের ক্যানসার প্রতিরোধী ক্ষমতাকে আরও উন্নত ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য করার ওপর কাজ করছেন। তারা ন্যানোপার্টিকেল প্রযুক্তি বা মেলিটিনের কৃত্রিম সংস্করণ তৈরি করে চিকিৎসা ক্ষেত্রে প্রয়োগের পরিকল্পনা করছেন। যদিও মানবদেহে প্রয়োগের আগে ব্যাপক গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে, তবুও এই আবিষ্কার স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
মৌমাছির বিষ থেকে পাওয়া মেলিটিন প্রাকৃতিক, লক্ষ্যভিত্তিক ও নিরাপদ চিকিৎসা পদ্ধতির দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি শুধুমাত্র স্তন ক্যানসার নয়, ভবিষ্যতে অন্যান্য ধরণের ক্যানসারের চিকিৎসাতেও প্রভাব ফেলতে পারে। এই গবেষণা চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম