প্রকাশ: সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৩:৩৭ পিএম

শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পুলিশ সারাদেশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। এ উপলক্ষে পূজা উদযাপনকারীদের জন্য বিশেষ কিছু পরামর্শও দিয়েছে পুলিশ। সোমবার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ বলেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কোনো ঘটনার সত্যতা যাচাই না করে উত্তেজিত হওয়া যাবে না। অনেক সময় গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা হয়, যা প্রতিরোধে ধৈর্য ও সচেতনতা জরুরি। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রাখতে বলা হয়েছে।
নারী ও পুরুষ দর্শনার্থীদের জন্য পূজামণ্ডপে আলাদা প্রবেশ ও প্রস্থান পথ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে কোনো দর্শনার্থীকে ব্যাগ, থলে বা পোঁটলা নিয়ে মণ্ডপে প্রবেশ করতে না দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পূজামণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র রাখার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপে আর্চওয়ে গেট বসানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এতে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সহজ হবে।
মণ্ডপ ও বিসর্জনস্থলে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখার ওপর জোর দিয়েছে পুলিশ। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কথা মাথায় রেখে স্ট্যান্ডবাই জেনারেটর বা চার্জার লাইটের ব্যবস্থা রাখারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে জরুরি মুহূর্তেও নিরাপত্তা কার্যক্রম ব্যাহত হবে না।
নিরাপত্তায় স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের পরামর্শ দিয়ে বলা হয়েছে, তাদের জন্য আলাদা পোশাক, পরিচয়পত্র ও ‘স্বেচ্ছাসেবক’ লেখা আর্ম ব্যান্ড থাকতে হবে। এতে দায়িত্বশীলদের সহজে চেনা যাবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের সঙ্গে সমন্বয় করতে পারবে।
পুলিশ বলেছে, পূজা চলাকালে আতশবাজি ও পটকা ফোটানো থেকে বিরত থাকতে হবে। একই সঙ্গে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিমা বিসর্জনের সময় অবশ্যই নির্ধারিত রুট অনুসরণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য পুলিশের পাশাপাশি র্যাব, ফায়ার সার্ভিস ও ঢাকেশ্বরী মন্দিরের সেন্ট্রাল কন্ট্রোল রুমসহ বিভিন্ন নম্বর প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নাম্বারেও ২৪ ঘণ্টা সাহায্য পাওয়া যাবে। জেলা পুলিশ সুপার ও থানার ওসির যোগাযোগ নম্বর police.gov.bd ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ