বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু      পরিকল্পিতভাবে কাজ করলে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান সম্ভব      যুবসমাজকে মাদকের গ্রাস থেকে রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব: সাচিং প্রু      সনদের পাশাপাশি বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জন জরুরি: শ্রমমন্ত্রী      ৮ মাসে পেরিয়ে গেলেও ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়া জায় নেই      বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ       একাদশের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন      ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল আরও ৮ জনের      শরণখোলায় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিএনপির বিক্ষোভ      রৌমারীতে উপজেলা কাব ক্যাম্পুরীর উদ্বোধন      কপোতাক্ষে মিলল ভ্যানচালক ইখলাসের মরদেহ      টাঙ্গাইল সেতুর প্রকৌশলীকে স্ট্যান্ড রিলিজ      
গৃহহীন মমেনার সরকারি ঘরে আশ্রয়ের স্বপ্ন ছিনিয়ে নিলো ইউপি সদস্য
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১১:৩৭ পিএম

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের গৃহহীন এক বিধবা নারী মমেনা বেগমকে (৬৫) সরকারি গুচ্ছ গ্রামের ঘর থেকে জোরপূর্বক বের করে দিয়েছেন এক ইউপি সদস্য। উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে পুনর্বাসন পেলেও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য গোলাম কিবরিয়া তা মানেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

মমেনা বেগম উপজেলার গোমড়া গ্রামের বাসিন্দা মরহুম ফজল মিয়ার স্ত্রী। তার স্বামী ছিলেন দিনমজুর ও গৃহহীন। ফজল মিয়ার মৃত্যুর পর গত ৭ বছর ধরে মমেনা বেগম একা দিনমজুরির মাধ্যমে সংসার চালিয়ে আসছেন। সন্তানরা বিয়ে করে আলাদা হয়ে যাওয়ায় তাকে দীর্ঘদিন ধরে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে থাকতে হয়।

শারীরিকভাবে অসুস্থ হলেও প্রতিদিন নদী থেকে মাছ ধরে বিক্রি করে ৫০-৬০ টাকা আয়েই চলে তার দিন। স্থানীয়দের মতে, গত ৪০ বছরে মমেনা বেগম বহু মানুষের বাড়িতে থেকেছেন, কিন্তু কখনো নিজস্ব কোনো আশ্রয় জোটেনি।

সম্প্রতি এক সাংবাদিকের প্রতিবেদনের মাধ্যমে মমেনার দুর্দশার বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। এরপর ইউএনও মো. আশরাফুল আলম রাসেল পরিত্যক্ত গুচ্ছ গ্রামের ঘর খোঁজার নির্দেশ দেন। তদন্তে দেখা যায়, নলকুড়া ইউনিয়নের গোমড়া গুচ্ছগ্রামের ৩০টি ঘরের মধ্যে ৫টি ঘর দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত। অবশেষে গত ১ জুলাই ইউএনও মমেনা বেগম ও আরেক বিধবা নারী শেফালী বেগমকে দুটি ঘর বরাদ্দ দিয়ে পুনর্বাসন করেন।

কিন্তু বরাদ্দের মাত্র দুই দিন পর স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম কিবরিয়া প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে মমেনাকে ঘর থেকে বের করে দেন এবং অন্য একজনকে সেখানে তুলে দেন। শেফালী বেগমকেও ঘর থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শেফালী বেগমের পিতা সোনা মিয়া এ বিষয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। জানা গেছে, অনেকেই গুচ্ছগ্রামের ঘর বরাদ্দ নিয়ে তা বিক্রি করে দিয়েছেন অথবা অন্যকে থাকতে দিয়েছেন।

ঘটনার বিষয়ে ইউপি সদস্য গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘ভূমি প্রশাসনের নির্দেশেই মমেনা বেগমকে বের করে দেওয়া হয়েছে।’

কিন্তু নলকুড়া ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. রুকুনুজ্জামান বলেন, ‘আমরা কাউকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দিইনি। বরং তাদের পুনর্বাসন করেছি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

৪০ বছরেও মাথা গোঁজার ঠাঁই না পাওয়া মমেনা বেগমের চোখে এখন শুধুই অনিশ্চয়তা আর বেঁচে থাকার সংগ্রাম।

স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম


আরও সংবাদ   বিষয়:  সরকারি ঘর   গৃহহীন     






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close