
প্রতীকী ছবি
অগ্নিকাণ্ড বা দুর্ঘটনা ঘটলেই সবার আগে জীবন বাজি রেখে ঝাঁপিয়ে পড়েন ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা। মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষার এ অভিযানে অনেক সময় নিজের জীবনই দিতে হয় তাদের। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ দিয়েছেন ৪৮ জন ফায়ারকর্মী। শুধু গত এক দশকেই মৃত্যুবরণ করেছেন ২৪ জন।
সবশেষ গত সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) গাজীপুরের টঙ্গীতে কেমিক্যাল কারখানার আগুন নেভাতে গিয়ে গুরুতর দগ্ধ হন ফায়ার ফাইটার শামীম আহমেদ। শরীরের ১০০ শতাংশ পুড়ে যাওয়া এ সদস্যকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার বিকেলে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
নিহতের পরিসংখ্যান
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর থেকে প্রাণ হারানো ৪৮ জনের মধ্যে ফায়ার ফাইটার ৩৫ জন, লিডার ৭ জন, ড্রাইভার ৩ জন এবং ডুবুরি, নার্সিং অ্যাটেনডেন্ট, স্টেশন অফিসার ও সিনিয়র স্টেশন অফিসার রয়েছেন একজন করে। এ ছাড়া ১৯৬৬ সালে আরও একজন প্রাণ হারিয়েছিলেন।
তাদের কেউ আগুনের তাপে দগ্ধ হয়ে, কেউ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে, কেউ ট্রাকচাপায়, আবার কেউ দেয়াল ধসে বা উচ্ছৃঙ্খল জনতার হামলার শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।
শুধু গত ১০ বছরেই (২০১৫-২০২৫) প্রাণ হারিয়েছেন ২৪ জন ফায়ার সার্ভিস কর্মী। এ সময় আহত হয়েছেন অন্তত ৩৮৬ জন, যদিও চলতি বছরের সঠিক সংখ্যা এখনো প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।
সাম্প্রতিক প্রাণহানি
গতকাল টঙ্গীতে নিহত শামীম আহমেদের আগে গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর সচিবালয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে গিয়ে ট্রাকচাপায় মারা যান ফায়ার ফাইটার সোহানুজ্জামান নয়ন। একই বছরে খাগড়াছড়িতে মারা যান রাসেল হোসেন।
২০২৩ সালে নারায়ণগঞ্জে জাহাঙ্গীর হোসেন এবং ২০২২ সালে সীতাকুণ্ড বিএম কনটেইনার ডিপো বিস্ফোরণে প্রাণ হারান ১৩ জন ফায়ার কর্মী।
এরপর ২০২১ সালে চট্টগ্রামে মিলন ও রংপুরের ডুবুরি আব্দুল মতিন, ২০২০ সালে সরিষাবাড়িতে কাইয়ুম খান, ২০১৯ সালে ঢাকায় সোহেল রানা, ২০১৭ সালে সুবল চন্দ্র দাস ও আব্দুল মতিন, ২০১৫ সালে গোপালগঞ্জে শাহ আলম, ২০১৩ সালে চট্টগ্রামে আবু সাইদসহ আরও অনেকে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারান।
২০০৮ সাল থেকে এরও আগে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আরও বহু ফায়ার ফাইটার প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন নিলেন্দ্র প্রসন্ন সিংহ, আজিজুল হক হাওলাদার, আ. রশিদ, অমল চন্দ্র মণ্ডল, ফজলুল হক, আক্তার হোসেন, মাহবুব হোসেন খান, জহিরুল হামিদ, দুলাল উদ্দিন, আতিয়ার রহমান, সাজ্জাদ হোসেনসহ অনেকেই।
এরও আগে স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময় ও পরবর্তীতে প্রাণ হারিয়েছেন নুরুল আমিন (১৯৭১), আরশাদ খান (১৯৭৩), মো. ইউনুছ (১৯৮৩), অনিরুদ্ধ বড়ুয়া (১৯৯৬) প্রমুখ সাহসী ফায়ার ফাইটার।
ফায়ার সার্ভিসের প্রতিক্রিয়া
ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের সিনিয়র স্টাফ অফিসার ও মিডিয়া সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহজাহান শিকদার বলেন, “আমাদের কর্মীরা কখনো দায়িত্ব পালনে পিছপা হন না। দুর্যোগ বা দুর্ঘটনায় সবার আগে এগিয়ে যাই আমরা। কঠিন পরিস্থিতিতেও জনগণের জানমাল রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছি। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক সহকর্মীকে হারিয়েছি। তারাই আমাদের ভবিষ্যতের প্রেরণা।”
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো