
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনা হবে না। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকেই নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে চায়, আলোচনার নামে সেটাই প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে।
মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে এ কথা বলেন তিনি। তাঁর এই বক্তব্য এমন সময় এলো যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানকে ঘিরে পারমাণবিক উত্তেজনা নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি নিউইয়র্কে জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কায়া কাল্লাসের সঙ্গে বৈঠক করেন। আলোচনার মূল বিষয় ছিল জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা আবার কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা।
ইউরোপীয় দেশগুলো জানিয়ে দিয়েছে, যদি ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচিতে নিয়ন্ত্রণ না আনে এবং আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার না দেয়, তবে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখা হবে না।
জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থা আইএইএ জানিয়েছে, ইরান অনুমোদিত সীমার চেয়ে ৪০ গুণ বেশি ইউরেনিয়াম মজুত করেছে।
২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তি (জেসিপিওএ) অনুযায়ী, ইরান কিছু সীমাবদ্ধতা মেনে নিয়ে নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি পেয়েছিল। কিন্তু ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে চুক্তি থেকে সরে গিয়ে নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। পরবর্তীতে জো বাইডেন প্রশাসনও সেই নীতি বজায় রাখে।
আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, ‘ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না, তবে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের অধিকার থেকে কখনোই সরে আসবে না।’
তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে আখ্যায়িত করেন ‘বিশ্বের এক নম্বর সন্ত্রাসী পৃষ্ঠপোষক’ হিসেবে।
এদিকে, আলোচনায় অগ্রগতি না হলে শনিবার থেকেই নিষেধাজ্ঞা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে। এতে ইরানের বিদেশি সম্পদ জব্দ, অস্ত্র চুক্তি স্থগিত এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে বাধা আসবে। ইরানি সংসদের কট্টরপন্থী সদস্যরা ইতিমধ্যেই পারমাণবিক বোমা তৈরির দাবি তুলেছেন।
তবে কিছুটা আশার কথাও শোনা যাচ্ছে। আইএইএ প্রধান রাফায়েল গ্রোসি জানিয়েছেন, যদি সমঝোতা হয়, তাদের পরিদর্শক দল প্রস্তুত আছে। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে পথ বের করা সম্ভব।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম