অ্যামচ্যামের ব্রেকফাস্ট মিটিং: পোর্ট ও লজিস্টিকস খাতের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা
প্রকাশ: সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৫:০৫ পিএম

আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম) আয়োজিত “পোর্ট ও লজিস্টিকস ম্যানেজমেন্ট” বিষয়ক ব্রেকফাস্ট মিটিং সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর দ্য ওয়েস্টিন ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে অতিথি বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান (ওএসপি, এনডিসি, এনসিসি, পিএসসি) এবং এলিকট ড্রেজ এন্টারপ্রাইজ এলএলসি’র ব্যবসা উন্নয়ন পরিচালক ফিলিপ গ্রভ। মিটিংয়ের স্পনসর ছিল ইউপিএস বাংলাদেশ।
উদ্বোধনী বক্তব্যে অ্যামচ্যাম সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ জানান, লজিস্টিকস খাত বর্তমানে প্রায় ৭০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে এবং দেশের মোট জিডিপির প্রায় ২০ শতাংশ অবদান রাখছে। এত গুরুত্বপূর্ণ খাত হওয়া সত্ত্বেও এটি এখনও সমন্বিত ও কার্যকরভাবে উন্নত হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিশেষ করে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে বিশ্ব সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান সন্তোষজনক নয়। ২০২৪ সালে প্রণীত লজিস্টিকস নীতিমালা দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।
ফিলিপ গ্রভ তাঁর বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্য অংশীদারত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং, ক্লাউড ও এআই-ভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে লজিস্টিকস দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন। তিনি বাংলাদেশের অংশীজনদের সঙ্গে মার্কিন প্রযুক্তি সরবরাহকারীদের সংযোগ স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
পরে অ্যামচ্যাম নির্বাহী পরিচালক চৌধুরী কায়সার মোহাম্মদ রিয়াদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় অংশ নেন ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন সোহাইল হাসান, এমএসসি’র কান্ট্রি হেড প্রকৌশলী হারুন-উর-রশীদ, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেডের অতিরিক্ত এমডি ইয়াছের রিজভী, কনভেয়র লজিস্টিকসের চেয়ারম্যান কবির আহমেদ, বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সায়েদ মোহাম্মদ আরিফ, ম্যা’রিটাইম আইন বিশেষজ্ঞ মহিউউদ্দিন কাদির ও আন্তর্জাতিক পোর্ট অপারেটর সায়েদ মোহাম্মদ তারেকসহ অনেকে। তাঁরা পোর্ট ও লজিস্টিকস খাতের অগ্রগতি এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণে নানা প্রস্তাব তুলে ধরেন।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মনিরুজ্জামান জানান, বর্তমানে দেশের ৯৬% বাণিজ্য ও ৯৮% কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। অতিরিক্ত চাপ কমাতে জাইকা-সমর্থিত জাতীয় পোর্ট নীতিমালা বছরের শেষ নাগাদ প্রকাশ পাবে। ই-গেট, রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং এবং বিশেষ অ্যাপ্লিকেশনের মতো ডিজিটাল উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়নাধীন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সবুজ পোর্ট উন্নয়নের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে সম্পূর্ণ বাণিজ্য-প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
অনুষ্ঠানের সমাপনীতে অ্যামচ্যাম বাংলাদেশের ট্রেজারার আল মামুন এম রাসেল ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে