
সংগৃহীত ছবি
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কোলা হাটে গর্ভবতী গাভী জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন কসাইয়ের বিরুদ্ধে। প্রাণিসম্পদ দপ্তরের দায়িত্বে থাকা এআই টেকনিশিয়ান রাজুর বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ এনে এলাকাবাসী বলছেন, প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় এমন ঘটনা বারবার ঘটছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কোলা হাটে নিয়মিত গরুর হাট বসে। এদিন একাধিক কসাই বিভিন্ন গরু জবাই করে মাংস বিক্রি করে। অভিযোগ রয়েছে, সেদিন একটি গর্ভবতী গাভীকেও জবাই করা হয়। পরে রাতের বেলায় কসাইখানার পাশে মৃত বাছুরটিকে পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসীর মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। শিয়াল-কুকুর বাছুরটিকে টেনে নিয়ে যেতে থাকলে ঘটনাটি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
পরদিন শনিবার সকালে ঘটনাটির ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই এলাকাজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে।
জানা যায়, কোলা হাটে পশু জবাই ও পরীক্ষার দায়িত্বে আছেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের এআই টেকনিশিয়ান রাজু। তিনি জানান, ঘটনাটি ঘটেছে তার উপস্থিতির বাইরে। তিনি বলেন, সকাল আটটার দিকে আমি খেতে গিয়েছিলাম। ওই সময় তারা গরুটি জবাই করে ফেলে। আমার কাছে থেকে কোনো কাগজ নেয়নি, পরীক্ষা করায়ওনি।
তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজু বিষয়টি জানার পরেও প্রশাসনকে অবহিত না করে স্থানীয়ভাবে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে কোলা হাটের ইজারাদার জুয়েল আমান ও বণিক সমিতি দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। তারা বাজারের মাংস বিক্রির সেডে তালা মেরে দেয়। জুয়েল আমান বলেন, এ ধরনের জঘন্য ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর আমরা হাটে মাংস বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছি। সমাধান না হওয়া পর্যন্ত হাটে কোনো গরু জবাই ও মাংস বিক্রি করা যাবে না।
বণিক সমিতির সভাপতি রুনজু বলেন, দুলাল ও সোহেলসহ কয়েকজন কসাই বহুদিন ধরে অসুস্থ ও মৃতপ্রায় গরু কম দামে কিনে জবাই করে মাংস বিক্রি করছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত এআই টেকনিশিয়ান তাদেরকে বাধা না দিয়ে বরং প্রশ্রয় দিচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রুহেল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বারবার এ ধরনের অপরাধ হচ্ছে, অথচ কেউ শাস্তি পাচ্ছে না। গর্ভবতী গাভী জবাইয়ের মতো জঘন্য অপরাধ আর হতে পারে না। আমরা কঠোর শাস্তি চাই।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রিপা রাণী বলেন, এআই টেকনিশিয়ানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে শুধু প্রাণিসম্পদ বিভাগের ওপর দোষ চাপিয়ে লাভ নেই। বাজার কমিটি, ইজারাদার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। সার্টিফিকেট ছাড়া কোনো পশু জবাই করা যাবে না, এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইশরাত জাহান ছনি বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সাথে আলোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে অভিযুক্ত কসাই দুলালের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে এক কসাই দাবি করেন, অনেকগুলো গরু একসাথে জবাই হওয়ায় কারা গর্ভবতী গাভী জবাই করেছে তা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন।
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো