
প্রতীকী ছবি
ইসলামে জুমার দিনকে বলা হয় সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন। এ দিনটি শুধু বরকতময় নয়, বরং মুসলিম উম্মাহর জন্য বিশেষ ফজিলতের দরজা খুলে দেয়। কোরআন ও হাদিসে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, জুমার আজান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মুমিনদের দুনিয়াবি ব্যস্ততা ছেড়ে আল্লাহর ঘরে ছুটে যেতে হবে। আগে উপস্থিত হওয়ার মাধ্যমে যে সওয়াবের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা কোরবানির সওয়াবের সঙ্গে তুলনীয়।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে অনেক মসজিদে দেখা যায়, স্থানীয় প্রভাবশালী বা মুতওয়াল্লিরা আগে থেকে জায়নামাজ বিছিয়ে সামনের কাতারে জায়গা দখল করে রাখেন। অথচ তারা নিজেরা আসেন সবার শেষে। এতে আগেভাগে আসা সাধারণ মুসল্লিদের কষ্ট পোহাতে হয়। শরিয়তের দৃষ্টিতে এমন আচরণ কি বৈধ?
কোরআনে বলা হয়েছে, “হে ঈমানদারগণ! যখন জুমার দিনে নামাজের জন্য আহ্বান জানানো হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে দ্রুত ছুটে যাও এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ত্যাগ করো। এটি তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা বুঝতে পারো।” (সুরা জুমআ : ৯)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি গোসল করে প্রথম প্রহরে মসজিদে যায়, তার সওয়াব উট কোরবানির সমান। দ্বিতীয় প্রহরে গেলে গরুর, তৃতীয় প্রহরে গেলে ভেড়ার, চতুর্থ প্রহরে গেলে মুরগির এবং পঞ্চম প্রহরে গেলে ডিম কোরবানির সওয়াব পাবে। কিন্তু ইমাম খুতবা শুরু করলে ফেরেশতারা আর আমল লেখেন না, খুতবা শোনেন। (বোখারি: ৮৮১)
এখানেই স্পষ্ট হয়, যিনি আগে আসবেন, তিনিই আগে বসার অধিকারী।
ইসলামী স্কলারদের মতামত
প্রখ্যাত ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ এ বিষয়ে বলেন,
মসজিদে মানুষকে ডিঙিয়ে সামনে যাওয়া নবী করিম (সা.) জাহান্নামের সেতু পার হওয়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন।
মসজিদে আগে থেকে জায়নামাজ দিয়ে জায়গা দখল করা ইসলামে অনুমোদিত নয়।
মসজিদে ইবাদতের জায়গায় কারও বিশেষ প্রাধান্য নেই। আগে আসা মুসল্লিই আগে বসবেন—এটাই ইসলামের নির্দেশনা।
এক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে, পবিত্রতা অর্জন করে, সুগন্ধি ব্যবহার করে মসজিদে যায় এবং মানুষকে ডিঙিয়ে সামনে যায় না, ইমামের খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনে, তার এই জুমা ও পরবর্তী জুমার মধ্যবর্তী গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।” (বোখারি: ৯১০)
আরেক হাদিসে এসেছে, এক ব্যক্তি খুতবার সময় মানুষকে ডিঙিয়ে সামনে যেতে চাইলে নবীজি (সা.) বলেছিলেন, “বসে পড়ো, তুমি দেরি করেছ, মানুষকেও কষ্ট দিচ্ছ।” (আবু দাউদ: ১১১৮)