প্রকাশ: সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৫:০৪ পিএম

বাংলাদেশ রেলওয়ে (বিআর) দীর্ঘদিন ধরে পুরোনো লোকোমোটিভের সংকটে ভুগছে। এই সংকট নিরসনে চীন বাংলাদেশের জন্য ২০টি মিটারগেজ (এমজি) ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সরবরাহ করবে, যার মূল্য প্রায় ১২৯ কোটি ৫৪ লাখ ডলার (প্রায় ১ হাজার ৫৯১ কোটি টাকা)। চীন এই প্রকল্পে অনুদান দিচ্ছে, যা রেল যোগাযোগের উন্নয়ন এবং আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রেল মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে ‘চায়না গ্রান্টের আওতায় বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ২০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহ’ শীর্ষক একটি প্রস্তাব অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে। ইতোমধ্যেই প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবের (পিডিপিপি) অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুততর করা হয়েছে।
পিডিপিপি অনুযায়ী, এই প্রকল্পের মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা (প্রায় ১৩৩ কোটি ১২ লাখ ডলার)। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৯১ কোটি টাকা চীন দেবে, বাকি ৪৪ কোটি টাকা (প্রায় ৩ কোটি ৫৮ লাখ ডলার) আসবে সরকারি তহবিল থেকে। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই সময়ে ২০টি লোকোমোটিভ সরবরাহ ছাড়াও, খুচরা যন্ত্রাংশ, যন্ত্রপাতি এবং বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও মেকানিকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এতে প্রযুক্তি ও জ্ঞানের স্থানান্তরও নিশ্চিত হবে।
বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে মোট ৩০৬টি লোকোমোটিভ রয়েছে, এর মধ্যে ১৭৪টি মিটারগেজ ও ১৩২টি ব্রডগেজ। তবে, মিটারগেজ লোকোমোটিভের অধিকাংশই ২০ বছরের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল পার করে ফেলেছে। বর্তমানে ১২৪টি এমজি লোকোমোটিভের ৭১ শতাংশই নকশাগত আয়ুষ্কাল অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে ৬৮টি ইঞ্জিন ৪০ বছর বা তার বেশি সময় ধরে চলেছে, এবং ৮৪টি ৩০ বছরের বেশি পুরোনো।
প্রকৌশলীদের মতে, এত পুরোনো ইঞ্জিন সচল রাখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। পুরোনো নকশার যন্ত্রাংশ পাওয়া যাচ্ছে না, আমদানির খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং ঘন ঘন বিকল হওয়ায় রেল চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এছাড়া, পুরোনো ইঞ্জিনের কারণে জ্বালানি খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে।
রেলওয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, “এমন পুরোনো ইঞ্জিনের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের খরচ উৎপাদনক্ষমতার তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বেশি। ইঞ্জিনগুলোর নির্ভরযোগ্যতা এতটাই কমে গেছে যে ট্রেন বিলম্ব বা বাতিল প্রায় অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়েছে।" তিনি আরও সতর্ক করেন যে, দ্রুত নতুন লোকোমোটিভ সংগ্রহ না হলে পূর্বাঞ্চলসহ বিভিন্ন মিটারগেজ রুটে রেল চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে।”
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে