প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ২:৪৬ AM

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ জানিয়েছেন, এ বছর নগরের জলাবদ্ধতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তিনি বলেন, রেকর্ড বৃষ্টিপাতের পরও জলাবদ্ধতার স্থান ও কারণ চিহ্নিত করে কাজ করার ফলে নগরের প্রধান সড়কগুলোতে পানি জমে থাকা কমেছে। গত ছয় মাসে ডিএনসিসি এলাকায় ৯৬ কিলোমিটার খাল খনন ও ২২০ কিলোমিটার নালা পরিষ্কারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
প্রশাসক এজাজ বলেন, বিমানবন্দর এলাকায় চলমান কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে জলাধার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ফলে সেখানে স্থায়ী সমাধান এখনও সম্ভব হয়নি। আপাতত অস্থায়ী সমাধান নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রকৌশল বিভাগ, ড্রেনেজ সার্কেল ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগকে সমন্বিত করে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ধানমন্ডি, নাখালপাড়া, কাজীপাড়া-শেওরাপাড়া, মিরপুর, কালশী ও বিমানবন্দরসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় খাল খনন, নালা নির্মাণ এবং পানি নিষ্কাশনের নতুন পথ তৈরির কাজ চলছে। বিশেষ করে কল্যাণপুর, বগার মা, প্যারিস ও কসাইবাড়ি খাল পুনঃখননের কাজ অব্যাহত রয়েছে।
মোহাম্মদ এজাজ আরও বলেন, বগার মা খাল গত ২০ বছরে উপেক্ষিত ছিল। বর্তমানে খালটির খননকাজ প্রায় শেষের দিকে, যার ফলে মিরপুরের ৬০ ফিট এলাকার জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমেছে। মোহাম্মদপুরে রামচন্দ্রপুর খালের জায়গায় তৈরি হওয়া বহুতল ভবন সম্পর্কে তিনি জানান, জেলা প্রশাসন, রাজউক ও সিটি করপোরেশন যৌথভাবে জরিপ চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করবে।
ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মঈন উদ্দিন বলেন, জলাবদ্ধতার মূল কারণ হলো নালায় পলিথিন, প্লাস্টিক ও অন্যান্য আবর্জনা ফেলা। এর ফলে পানি খাল বা জলাশয়ে সঠিকভাবে যেতে পারছে না। তাই নালায় কোনো কিছু ফেলা বন্ধ করতে হবে।
ডিএনসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর এ বি এম সামসুল আলম বলেন, জনগণকে খালে বর্জ্য না ফেলার বিষয়ে সচেতন হতে হবে। না হলে খাল পরিষ্কার করলেও কয়েক মাসের মধ্যেই আবারও জলাবদ্ধতা ফিরে আসবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটির সচিবের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা প্রধান সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন-উল-হাসান, বিভিন্ন অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তারা।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ