প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১:৩৫ AM

নেপালের ছাত্র আন্দোলনে সরকার পতনের প্রেক্ষাপটে প্রতিবেশী ভারতেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে ভিন্ন ভিন্ন দাবিতে রাস্তায় নামছে মানুষ। গত ৯ সেপ্টেম্বর চাকরিপ্রত্যাশীদের আন্দোলনে বিহারের বিভিন্ন এলাকা অচল হয়ে পড়েছিল। এবার আন্দোলনের দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে আসামে।
১০ সেপ্টেম্বর বুধবার সন্ধ্যায় আসামের তিনসুকিয়া জেলায় রাজপথে নামে মোড়ান সম্প্রদায়ের প্রায় ২০ হাজার মানুষ। তাদের দাবি— অবিলম্বে ‘তফসিলি উপজাতি’ (এসটি) মর্যাদা দিতে হবে। অল মোড়ান স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (এএমএসইউ)-এর নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই আন্দোলন প্রথমে তালাপ, কাকোপাথার ও মার্ঘেরিটায় কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে গতি পায়। পরে তা বিশাল সমাবেশে রূপ নেয় তিনসুকিয়া শহরে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ১৩ সেপ্টেম্বরের আসাম সফরের ঠিক আগে এই বিক্ষোভ স্থানীয় রাজনীতিতে বড়সড় চাপ সৃষ্টি করেছে।
বিক্ষোভ মিছিলটি কড়া নিরাপত্তার মধ্যে শুরু হয় বরগুড়ি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের মাঠ থেকে। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে হাজারও মানুষ এতে যোগ দেন। সমাবেশে এএমএসইউ সভাপতি পোলিন্দ্র বরা অভিযোগ করেন, মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার ১০০ দিনের মধ্যে মোড়ানসহ আরও পাঁচটি সম্প্রদায়কে এসটি মর্যাদা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু এক দশক কেটে গেলেও প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর আন্দোলনে যাওয়া হবে।
বিক্ষোভকারীরা সরকারকে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন। স্পষ্ট পদক্ষেপ না নিলে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে তারা অর্থনৈতিক অবরোধ শুরু করবেন বলে ঘোষণা দেন। একই সুরে এএমএসইউ সাধারণ সম্পাদক জয়কান্ত মোড়ান বলেন, কংগ্রেস, এজিপি এবং বিজেপি— তিন পক্ষই বছরের পর বছর মোড়ান সম্প্রদায়কে শুধু রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, যথেষ্ট হয়েছে, এবার ন্যায়বিচার চাই।
মোদীর আসন্ন সফরের প্রাক্কালে মোড়ান নেতারা দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকেই প্রতিশ্রুতি পূরণের সময়সীমা জানতে চান তারা। বিক্ষোভ শেষে তিনসুকিয়ার চারিআলিতে আরও একটি প্রতিবাদ সভা হয়, যেখানে ছাত্রনেতারা আন্দোলনকে দীর্ঘস্থায়ী ও ঐক্যবদ্ধভাবে চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ