প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১২:৩৪ AM আপডেট: ১১.০৯.২০২৫ ১২:৫০ এএম

সহিংসতা কবলিত নেপাল থেকে পাওয়া যাচ্ছে আলোচিত অনেক ছবি ও ভিডিও। এর মধ্যে একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, দেশটির মন্ত্রী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা সেনা হেলিকপ্টারের ফেলা দড়ি (রেসকিউ স্লিং) আঁকড়ে ধরে পালাচ্ছেন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়েছে।
সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে নিষেধাজ্ঞা জারি করলে রাজধানী কাঠমান্ডুতে শুরু হয় তীব্র বিক্ষোভ। আন্দোলন দ্রুত সহিংসতায় রূপ নিলে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং নাগরিকদের ঘরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেওয়া জেন-জি গোষ্ঠীগুলো ধ্বংসযজ্ঞ থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিয়েছে। তাদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনটি ‘সুবিধাবাদী অনুপ্রবেশকারীরা ছিনতাই করেছে’। শুরুতে সামাজিক মাধ্যম নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ শুরু হলেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন পুলিশ গুলি চালায়। মাত্র দু’দিনের মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ২০ জনের বেশি মানুষ। এতে ক্ষোভ আরও বেড়ে যায় এবং আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন অঞ্চলে।
তীব্র চাপের মুখে প্রধানমন্ত্রী ওলির পাশাপাশি পদত্যাগ করেছেন নেপালের প্রেসিডেন্টও। তবে এরপরও সহিংসতা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ অব্যাহত রয়েছে। সেনাবাহিনী অভিযোগ করেছে, বিভিন্ন ব্যক্তি ও নৈরাজ্যবাদী গোষ্ঠী আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করে সরকারি ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি ধ্বংস করছে।
বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, “মঙ্গলবারের বিক্ষোভ নেপালের জেন-জিদের আয়োজিত। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও দুর্নীতির অবসান। তবে আমাদের আন্দোলনকে অন্যরা অপব্যবহার করেছে।”
প্রতিবাদকারীরা আরও জানায়, তাদের লক্ষ্য কখনোই সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করা ছিল না। বরং তারা শান্তিপূর্ণ উপায়ে পরিবর্তন চেয়েছিল। কিন্তু সশস্ত্র দমন-পীড়ন ও বাহ্যিক অনুপ্রবেশ আন্দোলনকে সহিংস করে তোলে।
বর্তমানে সেনারা রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থান নিয়েছে। তবে হেলিকপ্টারে করে সরকারি কর্মকর্তা ও মন্ত্রীদের পালানোর ভিডিও দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, এটি নেপালের রাজনৈতিক সংকটকে আরও গভীর করছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ