
গাজায় মানবিক ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কুখ্যাত বাইকার গ্যাং ইনফিডেলস মোটরসাইকেল ক্লাবের (MC) সদস্যদের। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই গ্যাংয়ের বেশিরভাগ সদস্যের রয়েছে প্রকাশ্য ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডের ইতিহাস।
বিবিসি নিশ্চিত করেছে, অন্তত ১০ জন ইনফিডেলস এমসি সদস্য বর্তমানে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইউজি সলিউশনসের হয়ে কাজ করছেন। প্রতিষ্ঠানটি গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ)-এর ত্রাণকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা পরিচালনা করছে। তবে এসব কেন্দ্রে ইতোমধ্যেই খাবারের জন্য আসা বহু ফিলিস্তিনি গুলিবর্ষণ ও বিশৃঙ্খলার ঘটনায় নিহত হয়েছেন।
বিবিসি জানায়, অন্তত সাতজন ইনফিডেলস সদস্য গাজায় ত্রাণকেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনের পরিচয়ও প্রকাশ পেয়েছে— ল্যারি ‘জে-রড’ জারেট, ইনফিডেলস ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ইউজি সলিউশনসের লজিস্টিক প্রধান; বিল ‘সেইন্ট’ সিবে, একটি নিরাপত্তা টিমের নেতা; এবং রিচার্ড ‘এ-ট্র্যাকর’ লফটন, আরেকটি কেন্দ্রের টিম লিডার।
২০০৬ সালে ইরাক যুদ্ধে অংশ নেওয়া মার্কিন ভেটেরানদের হাত ধরে গড়ে ওঠে ইনফিডেলস এমসি। নিজেদের ‘আধুনিক ক্রুসেডার’ পরিচয়ে তারা ক্রুসেডিয়ার ক্রস প্রতীক ব্যবহার করে। গ্যাংয়ের ফেসবুক পেজে নিয়মিত ইসলামবিরোধী পোস্ট দেখা যায়। এর মধ্যে রমজান মাসে শূকরের মাংস ভুনা খাওয়ার পার্টি আয়োজন এবং নারীদের অবমাননাকরভাবে প্রদর্শনের মতো কার্যকলাপও অন্তর্ভুক্ত।
গাজায় এসব কেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনায় ইসরায়েল ও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমর্থন দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করছে, এই বিতরণ কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তার দায়িত্বে ইসলামবিদ্বেষী গ্যাংকে নিয়োগ দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম অধিকার সংস্থা সিএআইআরের উপপরিচালক এডওয়ার্ড আহমেদ মিচেল বলেন, “গাজায় ত্রাণ বিতরণের দায়িত্বে ইনফিডেলস বাইকার ক্লাবকে বসানো ঠিক সুদানে কেকেকে-কে দায়িত্ব দেওয়ার মতোই।”
ইউজি সলিউশনসের গাজায় নিয়োগপ্রাপ্ত প্রায় ৩২০ জনের মধ্যে কমপক্ষে ৪০ জনই ইনফিডেলস সদস্য। সাধারণ ঠিকাদারদের দৈনিক বেতন ৯৮০ ডলার, আর নিরাপত্তা টিম লিডারদের বেতন ১,৫৮০ ডলার। ইনফিডেলস নেতা জনি মালফোর্ড নিজেই ইউজি সলিউশনসের ঠিকাদার এবং গ্যাংয়ের সদস্যদের উচ্চ বেতনে নিয়োগ দিয়েছেন।
জাতিসংঘের মানবিক সমন্বয় সংস্থা (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গাজায় জিএইচএফের ত্রাণকেন্দ্রের কাছে খাবারের জন্য জড়ো হওয়া অন্তত ১,১৩৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছে শিশু, নারী ও প্রবীণ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসলামবিদ্বেষী গ্যাংকে গাজায় ত্রাণ নিরাপত্তায় নিয়োগ দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এর মাধ্যমে মানবিক সহায়তাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও ঘৃণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ