
কুমিল্লার তিতাস উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি পদ না পেয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সালাম মোল্লা (মেম্বার)-কে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে একই ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি নূরে আলম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
অভিযোগকারী সালাম মেম্বার বলেন, সম্প্রতি ভিটিকান্দি ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির কমিটি গঠনের সময় নূরে আলম ভূঁইয়া ও সাইফুল মেম্বারসহ আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ৮-১০ জন ব্যক্তি আমার বাড়িতে আসে। তারা নূরে আলম ভূঁইয়াকে ওয়ার্ড সভাপতি করার সুপারিশ ও তাদের লোকজনকে বিএনপিতে ঢুকিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। আমি তখন বলি, ওয়ার্ড কমিটি গঠন ইউনিয়নের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের এখতিয়ার, আমি এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারবো না। এছাড়া তাদের আওয়ামী লীগের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সংশ্লিষ্টতার কারণে আমি কোনো সুপারিশ করতে রাজি হইনি।
তিনি অভিযোগ করেন, “এ ঘটনার পর থেকেই নূরে আলম ভূঁইয়া ও তার সহযোগীরা তাকে নানা সময় গালাগালি ও হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল। সর্বশেষ গত ১৮ আগস্ট কুমিল্লা জজকোর্টে কাজ শেষে ফেরার পথে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে অটোরিকশায় ওঠার সময় নূরে আলম ভূঁইয়াসহ কয়েকজন তার পথরোধ করে হামলা চালায়। তারা তার পাঞ্জাবি টেনে ধরে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারে। চিৎকার দিলে আইনজীবী ও পথচারীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।”
সালাম মেম্বার আরও বলেন, “পরে থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে থানার সামনেও আমাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। আমি প্রাণ বাঁচাতে থানার ভেতরে আশ্রয় নিয়েছিলাম, তবে ভয়ে লিখিত অভিযোগ করতে পারিনি।”
বর্তমানে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানিয়েছেন।
তার দাবি, অভিযুক্ত নূরে আলম ভূঁইয়া একজন খুনি ও মামলাবাজ। খুন, ডাকাতি, চুরি, চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলসহ একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার ভয়ে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটায়।
অন্যদিকে নূরে আলম ভূঁইয়ার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “জজকোর্ট প্রাঙ্গণে সিসি ক্যামেরা আছে। ভিডিও ফুটেজ দেখলেই সত্য জানা যাবে। আমি কারো কাছে পদ চাইনি, বরং কর্মী সম্মেলনে সভাপতি প্রার্থী হয়েছিলাম। পরে আমাকে সিনিয়র সহ-সভাপতি করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, “পরবর্তীতে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার ওসি বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছেন।”
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ