প্রকাশ: সোমবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৫, ১:৫৬ পিএম আপডেট: ২৫.০৮.২০২৫ ২:০২ PM

পটুয়াখালীর পায়রা নদীতে ভরা মৌসুমেও ইলিশের দেখা মিলছে না। এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় জেলে ও আড়তদাররা। নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে নামলেও প্রত্যাশিত পরিমাণে মাছ না পাওয়ায় শূন্য হাতে ফিরছেন অনেক জেলে।
জেলেরা জানান, ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে নামলেও ইলিশ তেমন ধরা পড়ছে না। আবহাওয়ার পরিবর্তন, নদীর নাব্যতা হ্রাস, আর ডুবোচরের কারণে মাছের বিচরণ ব্যাহত হচ্ছে বলে তারা মনে করছেন।
নদীতে ইলিশের পরিমাণ কমে যাওয়ায় বাজারেও এর সরবরাহ কম, আর দাম আকাশছোঁয়া। বর্তমানে এক কেজি ইলিশের দাম ১ হাজার ২০০ থেকে ২ জাহার টাকা পর্যন্ত, যা সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) মৎস্য অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সাজেদুল হক বলেন, ‘সাগরের লবণাক্ততা বৃদ্ধি, সমুদ্রের উষ্ণতা, অবৈধ জাল ও নৌ-চলাচলের কারণে ইলিশ আসতে না পারায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে যাচ্ছে। এ অবস্থা কাটিয়ে উঠতে নিয়মকানুন মেনে চলাটা খুবই প্রয়োজন। জেলেদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।’
জলবায়ু পরিবর্তন, ডুবোচর ও নাব্যতা সংকটে ইলিশের মাইগ্রেশন রুট পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান। এই সমস্যার কার্যকর উদ্যোগ না নিলে এ অঞ্চলের শত শত জেলে কর্মহীন হয়ে পড়বেন বলে জানান তিনি।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, অতিবৃষ্টি-অনাবৃষ্টি, তীব্র তাপপ্রবাহ, পায়রায় ডুবোচর, নদীর নাব্যতা হ্রাস ও দূষণের কারণে ইলিশের মাইগ্রেশনে বড় বাধা তৈরি হয়েছে। ফলে ডিম ছাড়তে মা ইলিশ মিঠাপানির নদীতে আসতে পারছে না। এছাড়া জাটকা ধ্বংস, বাধাজাল ও কারেন্ট জালের ব্যবহার এই সংকট আরও বাড়াচ্ছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম