প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৫, ১:৫৮ AM আপডেট: ১৯.০৮.২০২৫ ২:০১ এএম

সংগৃহীত ছবি
পাঠ্যবই থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেয়া ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ সরিয়ে দেয়ার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম কমিটি (এনসিসি)। একই সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ ভাষণ কাটছাঁট করে সংক্ষিপ্ত রূপে পাঠ্যবইয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সভায় কিছুটা বাকবিতণ্ডাও হয়েছে।
গতকাল সোমবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর মতিঝিলে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) কার্যালয়ে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পরিমার্জিত পাঠ্যপুস্তক অনুমোদন সংক্রান্ত সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।
সভায় এনসিটিবির পক্ষ থেকে পাঠ্যবই থেকে ৭ মার্চের ভাষণ বাদ দেয়ার প্রস্তাব করা হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে বই পর্যালোচনায় জড়িত শ্রেণি শিক্ষকরাও এ প্রস্তাব করেন।
তবে উপস্থিত শিক্ষা প্রশাসনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ভাষণ বাদ দেওয়ার বিপক্ষে অবস্থান নেন এবং সংক্ষিপ্ত আকারে রাখার পক্ষে মতামত দেন। এর ফলে আলোচনা শেষে ভাষণ রাখার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
এছাড়া সভায় জুলাই আন্দোলন নিয়ে লেখা প্রবন্ধ ‘আমাদের নতুন গৌরব গাঁথা’ সংশোধনের বিষয়ও ওঠে। প্রবন্ধে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ও নৃশংস গণহত্যার খণ্ডিত চিত্র তুলে ধরার অভিযোগ এবং শেখ হাসিনার নাম বাদ দেয়ার অভিযোগ তোলার পর প্রবন্ধটি সংশোধন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় এনসিটিবির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক রবিউল কবীর চৌধুরী ও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমসহ কয়েকজন কর্মকর্তা ৭ মার্চের ভাষণ পাঠ্যবইয়ে রাখার পক্ষে অবস্থান নেন। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী অষ্টম ও একাদশ শ্রেণির বইয়ে ভাষণ সংক্ষিপ্ত আকারে রাখা হবে।
এ বিষয়ে অধ্যাপক রবিউল কবীর চৌধুরী বলেন, “মাধ্যমিকের অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে আগেও বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ছিল। এটি সংক্ষিপ্ত আকারে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একাদশ শ্রেণির বইয়েও একই সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য হবে। আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা উপদেষ্টা বিষয়টি গণমাধ্যমকে ব্রিফিং দেবেন।”