
সংগৃহীত ছবি
জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত, প্রতিটি মুহূর্তে মানুষ শেখার জন্য উদগ্রীব থাকে। আল্লাহ তায়ালা মানুষের এই জ্ঞানের তাগিদকে স্বাগত জানিয়েছেন। মহাগ্রন্থ আল কোরআনে ইরশাদ হয়েছে:
إقْرَاْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِیْ خَلَقَ، خَلَقَ الْاِنْسَانَ مِنْ عَلَق ، اِقْرَاْ وَ رَبُّكَ الْاَكْرَم، الَّذِیْ عَلَّمَ بِالْقَلَم، عَلَّمَ الْاِنْسَانَ مَا لَمْ یَعْلَمْ
অর্থ: “পাঠ কর তোমার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন; মানুষকে ‘আলাক’ থেকে সৃষ্টি করেছেন। পাঠ কর, এবং তোমার প্রতিপালক মহামহিমান্বিত, যিনি কলমের মাধ্যমে শিক্ষা দিয়েছেন। মানুষকে যা জানত না, তা শিক্ষা দিয়েছেন।” (সুরা আলাক: ১–৫)
আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন:
قُلْ هَلْ یَسْتَوِی الَّذِینَ یَعْلَمُوْنَ وَ الَّذِینَ لَا یَعْلَمُوْنَ
অর্থ: “বল, যারা জানে এবং যারা জানে না, তারা কি সমান?” (সুরা যুমার: ৯)
এছাড়া, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
مَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَلْتَمِسُ فِیهِ عِلْمًا، سَهّلَ اللهُ لَهُ بِه طَرِيقًا إِلَى الْجَنّةِ
অর্থ: “যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জনের পথে চলে, আল্লাহ পাক তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেবেন।” (মুসলিম: ২৬৯৯)
হাদিসে আরও বর্ণিত হয়েছে, জ্ঞানার্জনের পথ আল্লাহর রাস্তা হিসেবে বিবেচিত।
আজকাল অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাত্রা করেন। অনেকেই অমুসলিম দেশকেও বেছে নেন। এই প্রসঙ্গে প্রখ্যাত ইসলামী স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, উচ্চশিক্ষার জন্য অমুসলিম দেশে যাওয়া জায়েজ। তবে কিছু শর্ত থাকে:
১. ঈমান রক্ষা করার ক্ষমতা থাকা।
২. সেখানে গিয়ে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার প্রস্তুতি থাকা।
৩. নিজের শিক্ষাজ্ঞান বৃদ্ধি ও দাওয়াতি মিশন প্রচারে মনোযোগ রাখা।
শায়খ আহমাদুল্লাহ আরও বলেন, অমুসলিম দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য শর্ত ভিন্ন। যদি সেখানে বসবাসে আপনার ঈমান বা নৈতিকতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে স্থায়ীভাবে থাকা জায়েজ নয়। তবে যেখানে মুসলিমদের গ্রহণযোগ্য সমাজ রয়েছে এবং ঈমান-আমল ঝুঁকিপূর্ণ নয়, সেখানে স্থায়ীভাবে থাকা অনুমোদিত।
স্বদেশ প্রতিদিন/ এমএএম