
সংগৃহীত ছবি
পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে দৌলতদিয়া–পাটুরিয়া এবং জৌকুড়া–নাজিরগঞ্জ নৌরুটে ফেরি চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বর্তমানে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৭টি ঘাটের মধ্যে সচল আছে মাত্র একটি। স্রোতের চাপ ও নাব্য সংকটে দুটি রুটে ৯টি ফেরি যানবাহন পারাপার করতে পারছে না।
বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙনের কবলে পড়ে দৌলতদিয়ার ১, ২ ও ৫ নম্বর ঘাট বিলীন হয়ে গেছে। সম্প্রতি প্রবল স্রোতের কারণে ৩ ও ৪ নম্বর ঘাটেও ফেরি ভিড়ানো যাচ্ছে না। ৬ নম্বর ঘাটে পন্টুন থাকলেও ফেরি চালানোর মতো উপযুক্ত পরিবেশ নেই। ফলে ৭ নম্বর ঘাট দিয়েই সীমিত আকারে ফেরি চলাচল করছে।
গতকাল শুক্রবার (১৫ আগস্ট) সকালে অনেক প্রচেষ্টার পর ‘ঢাকা’ নামের একটি ফেরি ৩ নম্বর ঘাটে ভিড়তে সক্ষম হয়।
এর আগে ‘বাইগার’ নামের একটি ফেরি ৪ নম্বর ঘাটে নোঙরের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। পরে কর্তৃপক্ষ ৩ ও ৪ নম্বর ঘাট বন্ধ ঘোষণা করে।
এছাড়া দৌলতদিয়া–পাটুরিয়া নৌরুটে চলাচলকারী ১৫টি ফেরির মধ্যে গোলাম মওলা, কেরামত আলী, মতিউর, বরকত ও ফরিদপুরসহ ৬টি ফেরি যান্ত্রিক ত্রুটি ও স্রোতের কারণে অচল হয়ে পড়েছে।
বাকি ৯টি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার হলেও সময় দ্বিগুণ লেগে যাচ্ছে। আগে যেখানে চার কিলোমিটার অতিক্রম করতে ৩০–৩৫ মিনিট লাগত, এখন সময় লাগছে প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি। ফলে উভয় ঘাটেই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
ঢাকামুখী বাস ও ট্রাকের চালকরা বলছেন, ঘাটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে তারা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
এদিকে পদ্মার প্রবল স্রোতের কারণে রাজবাড়ীর ধাওয়াপাড়া (জৌকুড়া)–পাবনার নাজিরগঞ্জ নৌরুটেও ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এ রুটে নিয়মিত চারবার ফেরি চলাচলের কথা থাকলেও সময়মতো ছাড়ছে না ফেরি। এখানে বর্তমানে নিম্নমানের দুটি ফেরি চালু রয়েছে।
এর মধ্যে ‘করবী’ ফেরি যান্ত্রিক সমস্যায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। অপর ফেরি ‘ক্যামেলিয়া’ও স্রোতের চাপে মাঝনদী থেকে ফিরে আসে। পরে আরিচা ঘাট থেকে আনা ‘গৌরী’ ফেরিটি চলাচল শুরু করেছে।
ধাওয়াপাড়া ফেরিঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) রবিউল ইসলাম জানান, প্রবল স্রোতের কারণে স্থানীয় ফেরিগুলো চলতে পারছে না। তবে আরিচা থেকে আনা ফেরিটি চালু রয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে নতুন ফেরি পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, তীব্র স্রোতের কারণে ফেরি চালানো ও ঘাট টিকিয়ে রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। যাত্রী ও যানবাহনের ভোগান্তি কমাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ এমএএম