প্রকাশ: বুধবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৫, ৪:২৭ পিএম

খুনিদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।
কুমিল্লার তিতাস উপজেলার শাহাবৃদ্ধি গ্রামে পরিকল্পিত একটি হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং খুনিদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।
আজ বুধবার (১৩ আগস্ট) বেলা ১১টায় কড়িকান্দি বাজার হতে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে গৌরীপুর-হোমনা সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্বর হয়ে পুনরায় কড়িকান্দি বাজারে গিয়ে মানববন্ধন করে এলাকাবাসী। এরআগে শাহাবৃদ্ধি গ্রামের হানিফ ভুঁইয়ার ছেলে মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়াকে (৩৫) পরকীয়া আখ্যা দিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে ৮ টুকরো করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
মানববন্ধন বক্তব্য রাখেন, সাহাবৃদ্ধি গ্রামের আবুল কাশেম ভূইয়া বাবুল, মো. হেলাল ভূইয়া, মো. মানিক ভূইয়া ও মো. মোস্তাক আহমেদ ভূইয়া। এসময় বক্তারা বলেন, “পুলিশ খুনি দম্পতিকে গ্রেফতার করলেও হত্যাকাণ্ডে আরো একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে। আমরা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাই।”
উল্লেখ্য, গত (৬ আগস্ট) রাত আনুমানিক ১০ টায় একই উপজেলার মজিদপুর গ্রামের মৃত মজু মিয়ার ছেলে মো. হোসেন মিয়ার স্ত্রী স্মৃতি আক্তার; নজরুলকে ফোনে ডেকে নিয়ে তাদের নিজ ঘরে হত্যা করে। পরে লাশটিকে ৮ টুকরো করে চারটি বস্তায় ভরে খালে ফেলে দেয় খুনি দম্পতি। এরপর পুলিশ নজরুলের পিতার দায়ের করা নিখোঁজ জিডি’র ভিত্তিতে খুনি দম্পতিকে গ্রেফতার করলে তারা পুলিশের নিকট স্বীকারোক্তি দেয়। তাদের স্বীকারোক্তি মতে রবিবার দিনভর অভিযান চালিয়ে খাল থেকে দুটি খণ্ডিত হাত উদ্ধার করে পুলিশ এবং তার পরদিন সোমবার রাত ১১ টায় উপজেলার মাইঠ্যা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় বস্তাবন্দি দুই পায়ের চার টুকরো উদ্ধার করে পুলিশ। এখন পর্যন্ত নজরুলের শরীরের অংশ বিশেষ উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
এঘটনায় নিহত নজরুলের পিতা বাদী হয়ে হোসেন ও তার স্ত্রী স্মৃতি আক্তার দম্পতিকে আসামি করে এবং ৩/৪ জনকে অজ্ঞাত করে একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলার ১ নং আসামি হোসেন ও ২ নং আসামি স্মৃতি আক্তার বর্তমানে কারাগারে আছেন।
এবিষয়ে তিতাস থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদ উল্যাহ বলেন, “নজরুল হত্যাকারী হোসেন ও তার স্ত্রী স্মৃতি আক্তারকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করেছি এবং তদন্তে আরো কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে।”